বেনজীর আহমেদ সিদ্দিকী
ফার্মাসিস্ট ও সমাজকর্মী

কাঠলিচু একপ্রকার লিচু জাতীয় সুস্বাদু ফল। স্বাদ ও ঘ্রাণে লিচুর কাছাকাছি থাকা এই ফলকে বাচ্চারা মুঠোয় ভরে খেতে খুবই পছন্দ করে। লংগান বা আঁশফল নামেও অনেক এলাকায় এর পরিচিতি আছে। বিদেশেও কাঠলিচুকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমনঃ- মায়ানমারে কিয়েট মৌক, ভিয়েতনামে নাহান, কম্বোডিয়ায় মিয়েন, ইত্যাদি। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে কাঠলিচুর আদি নিবাস মালয় উপদ্বীপ। থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানে কাঠলিচুর প্রচুর চাষ হয়। বাংলাদেশেও এটি স্বল্পপরিমাণে চাষ করা হয়।

কাঠলিচু গাছ মধ্যম আকারের চিরসবুজ গাছ, যা ৬ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে ফুল এবং মে মাসের শেষ থেকে জুন ও জুলাইয়ে ফল হয়। কাঠলিচুর ফল ঝুলন্ত এবং আঙ্গুরের মতো গুচ্ছাকার। ফলের উপরিভাগ মসৃণ, রং বাদামি, আকার গোল এবং লিচুর চেয়ে অনেক ছোট হলেও ফলের শাঁস সাদা, কচকচে এবং খেতে প্রায় লিচুর মতো।

কাঠলিচুর বেশকিছু উল্লেখযোগ্য ঔষধিগুণ আছেঃ-

ক. কাশি ও পেটব্যথা উপশমে কাঠলিচুর কার্যকারিতা আছে।

খ. কাঠলিচুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার হজমে সহায়ক।

গ. মেনোপজ পরবর্তী নারীদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পুরন করে।

ঘ. কাঠলিচুর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড শরীরের বিটা ক্যারোটিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনের শোষনে সহায়তা করে।

ঙ. এটি আল্টাভায়োলেট রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

  • 112
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    112
    Shares