ভালোবাসা দিবসে পদ্মা রিসোর্টে ভ্রমণ। ছবি: ভ্রমণ গাইড

ভালোবাসা দিবস খুব উৎসবমুখর হওয়ায় ঢাকার ভেতরে খুব হৈ চৈ, শোরগোল থাকে। প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে তাই কোলাহল থেকে দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে চাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগের অভাবে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিন্তু আপনি চাইলেই ঢাকার আশেপাশেই অনেক দর্শনীয় স্থানসহ বিভিন্ন রিসোর্টে বেড়াতে যেতে পারেন। শহুরে ঝামেলা, যানজট থেকে দূরে গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য ঢাকার আশেপাশে কিছু স্থান নির্বাচন করতে পারেন।

গোলাপ গ্রাম

গোলাপ গ্রাম, সাদুল্লাহপুর। ছবি: সংগৃহীত

গোলাপ গ্রাম ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকার খুব কাছেই তুরাগ নদীর তীরে সাদুল্লাহপুরের অবস্থান। পুরো গ্রামটাই গোলাপের বাগানে ভরা। উঁচু জমিগুলো মিরান্ডি জাতের গোলাপে ছেয়ে আছে। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রিয়জনের সঙ্গে কোলাহল মুক্ত একটি দিন কাটাতে চলে যেতে এই গ্রামে। যেহেতু খুব খাবার হোটেল ওখানে পাবেন না তাই চাইলে দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে আপনি গাবতলী আসতে পারেন। ভাড়া ২০-২৫ টাকা। এরপর গাবতলী বাসস্টান্ড থেকে যেকোনো বাসে সাভার বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে নামতে হবে। গাড়ি ভাড়া ২৫ টাকা। ওভারব্রিজ পাড় হয়ে পূর্ব দিকের বিরুলিয়া ইউনিয়নের রাস্তায় ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে ভাড়া ২০ টাকা দূরত্ব হবে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। চলে যাবেন স্বপ্নের মতো সুন্দর গোলাপ গ্রামে।

পদ্মা রিসোর্ট

পদ্মা রিসোর্ট, মাওয়া। ছবি: সংগৃহীত

রিসোর্টটি ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটির অবস্থান মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার লৌহজং থানার একদম পাশে পদ্মা নদীর বুকে। বাস দিয়ে গেলে প্রথমে গুলিস্তান যেতে হবে। সেখান থেকে গাংচিল পরিবহনে করে সরাসরি লৌহজংয়ের আসতে পারবেন। ভাড়া নেবে ৭০ টাকা। অথবা মাওয়া ঘাটে নেমে তারপর লৌহজং আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে গুলিস্তান থেকে বাসের অভাব হবে না। রামপুরা-মালিবাগ থেকে কেউ আসতে চাইলে প্রচেষ্টা পরিবহনে উঠতে পারেন মাওয়াঘাট পর্যন্ত। মাওয়া থেকে অটোরিকশায় করে লৌহজং থানা আসতে পারবেন। রিজার্ভ করলে ভাড়া নিবে ১০০ টাকার মতো। সেখানে থানার পাশেই ঘাট রয়েছে। আর নদীর ওপারে তাকালেই দেখতে পারবেন অপূর্ব এবং ছিমছাম পদ্মা রিসোর্ট। আগে থেকে ফোনে যোগাযোগ করে গেলে রিসোর্টের নিজেদের ইঞ্জিন চালিত নৌকা আপনাকে ওই পারে নিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে প্রতিজনের ৫০ টাকা করে। অবশ্য এই ভাড়ায় আসা-যাওয়া দুটি পারাপারই রয়েছে।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট, গাজীপুর। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে দৃষ্টিনন্দন নক্ষত্র বাড়ি রিসোর্ট। ২৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টটিতে রয়েছে কৃত্তিম ঝর্ণা, কনফারেন্স হল, সুইমিং পুল, ১১টি কটেজ এবং আবাসিক ভবন। তাই সময় থাকলে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যেতে পারেন এই রিসোর্টটিতে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে গাজীপুরে সারাদিনই বাস চলাচল করে। ঢাকার আজিমপুর থেকে টঙ্গীর হোসাইন মার্কেটে ‘অনিক’ এবং ‘উইনার’ বাস সার্ভিস চলাচল করে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশা অথবা ব্যাক্তিগত গাড়িতেও গাজীপুরে পৌছাতে পারেন।