বিদ্যুৎ

বর্তমান সরকার ৬০৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ভোলা জেলায় চার উপজেলায় ৯২ ভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করেছে । ভোলা সদর উপজেলা, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৫৭ জন গ্রাহক শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুফল ভোগ করছে।

এর মধ্যে দৌলতখান ও তজুমদ্দিন উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন ১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্য দুটি উপজেলাও উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে চরফ্যাশন ও লালমোহন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা হবে। আর ২০২০ সালের মধ্যে পুরো জেলায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মিজানুর রহমান জানান, ভোলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করা ৪টি উপজেলার মধ্যে দৌলতখান উপজেলায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে উপজেলার ৩৮ হাজার ৪৪৯ জন গ্রাহক।

উপজেলা সদরে ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩৯৩ কিলোমিটার লাইন স্থাপনের মাধ্যমে ৬৪ হাজার ৩৭ টি মিটার স্থাপন হয়েছে। এছাড়া ভোলা সদরেও চলতি বছরের জুলাই মাসে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একইভাবে তজুমদ্দিন উপজেলায় ২৩ হাজার ৩৯ জন গ্রাহকের মাঝে ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৯৬ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বোরহানউদ্দিনে ১৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১’শ ২২ কিলোমিটার লাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে উপজেলার ৩৯ হাজার ৭৩২টি পরিবার।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, জেলায় গ্রীড লাইনের আওতায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম ইতিমধ্যে ৯২ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন ৪টি উপজেলায় মানুষের জীবন মানে পরিবর্তন এসেছে। প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশ ঘরে আজ বিদ্যুতর আলোয় আলোকিত হচ্ছে। ফলে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য কমে আসছে। গ্রামে বসেই মানুষ বিদ্যুূতের সাহায্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছে।

তিনি আরো বলেন, গ্রীড লাইনের বাইরে জেলায় জনবসতিপূর্ণ ৮টি বিচ্ছিন্ন চর সনাক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এসব চরে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে চর কুকরী-মুকরীতে বিদ্যুতায়ন কাজের টেন্ডার পক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, জেলার শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করা ৪টি উপজেলা ছাড়াও লালমোহন ও চরফ্যসন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে লালমোহনে ১৬’শ ২৪ কিলোমিটার লাইন প্রয়োজন। স্থাপন হয়েছে ১৩’শ ৫৬ কিলোমিটার। আর ব্যয় হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা। একইসাথে চরফ্যাসনে ২৬’শ ৬৭ কিলোমিটার লাইনের বিপরীতে ১৯’শ ৫৮ কিলোমিটার লাইন স্থাপন হয়েছে। এ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ১৬ নং দক্ষিণ চর ভেদুরিয়া এম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই মনে করেন, সরকারের প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুূতায়নের ফলে লেখা-পড়ার মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় কেরোসিন কিনে কুপি বা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা করতে হতো। যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হতো না।

চর-চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের শরিফ খা বাজারের ক্ষুদ্র বিক্রেতা ফয়েজ হোসেন ও বারেক আলী বলেন, বিগত দিনে তাদের এখানে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পরই বাজারের বেচা-কেনা শেষ হয়ে যেত। গত কয়েক বছরে এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন আসাতে অনেক রাত পর্যন্ত হাটের কার্যক্রম চলে। ফলে তাদের আয় রোজগারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবদুল মালেক/ভোলা