পল্রী বিদ্যুত অফিস।

ভোলায় পল্লীবিদ্যুৎতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। অধিকাংশ দিন ইফতারের সময় বিদ্যুৎ নেই, নামাজ শুরুতে বিদ্যুৎ নেই, সেহেরির সময়ও বিদ্যুৎ নেই। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় পল্লীবিদ্যুৎ না থাকায় গরমে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে রোজাদাররা।

এদিকে বোরহানউদ্দিন শাহবাজপুর কূপের প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে ভোলা সদরে ৩৪ মেঘাওয়াট ও বোরহানউদ্দিন কুতুবা নাদিরা চর ২২৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে গঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভোলার বিদ্যুৎ দিয়ে বরিশাল অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা, উপজেলা আলোকিত হলেও ভোলাবাসী অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

বড়মানিকা ইউনিয়নের মো: মাকসুদ জানান, আমাদের বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২২৫ মেঘাওয়াট ও ভোলা সদরে ২২৫ মেঘাওয়াট বিদ্যু উৎপাদন হচ্ছে। অথচ আমরা ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ইফতারের সময়, এশা’র নামাজ শুরুর সময়, সেহেরির সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে আমরা চরম কষ্ট পাচ্ছি। এছাড়াও দিনের বেশির ভাগ সময় ঘন ঘন লোডশেডিং হয়। প্রচন্ড ঘরমে আমরা চরম কষ্ট পাচ্ছি।

২৩ মে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বিদ্যু গিয়ে পরদিন ২৪ মে শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টায় বিদ্যুৎ আসে। আমাদের উৎপাদিত বিদ্যুত আমাদের চাহিদা মত দিতে হবে।

বোরহানউদ্দিনের সাংবাদিক নীল রতন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকা সত্বেও পল্লীবিদ্যুৎতের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনে আমরা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের শিকার। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হয় পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকদের। রাতে গরমে ঘুমাতে পারছি না।

শিক্ষার্থীরা ঠিকমত পড়াশুনা করতে পারছে না বিদ্যুৎতের জন্য।

এতে মাথা ব্যথা নেই পল্লীবিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের।

ভোলা ও বোরহানউদ্দিন পৌরসভা এলাকায় পিডিবি লাইনের আওতায়। একই জেলায় পিডিবি গ্রাহকরা নিরবিচ্ছন্ন ভাবে বিদ্যুৎ পেলেও পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বেলায় তা উল্টো। ভোলার সকল উপজেলাই পল্লী বিদ্যুৎতের উপর নির্ভরশীল। তাই পল্লীবিদ্যুৎতের কর্মকর্তারা ইচ্ছা করেই গ্রাহকদের সঠিক সেবা দিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন তিনি।

চরফ্যাশনের গ্রাহক ওমর ফারুক বলেন, একেতো গরম আবার থাকে না বিদ্যুৎ। এতে আমরা চরম কষ্টের মধ্যে আছি। বিদ্যুৎ একবার গেলে ১/২ ঘন্টার আগে আর দেখা মিলে নাবদ্যুৎ বিল ঠিকমত আদায় করলেও আমাদের গ্রাহক সেবা ঠিকমত দিচ্ছে না।। আমরা বিদ্যুৎতের এ লোডশেডিং থেকে মুক্তি চাই।

এব্যাপারে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল বাশার তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যান্ত্রিক দ্রুটির জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে কাজ করতে হয় ওই সময় বিদ্যুৎ থাকে না।

তিনি আরোও জানান আগামী ২/১ দিনের মধ্যে লোডশেডিং এর সমস্যা থাকবে না। বোরহানউদ্দিন এর লাইনে খুব দ্রুত ১২০ এমবি একটি টান্সমিটার বসানো হবে। এ টান্সমিটার বসানো হলে আগামী বছর বিদ্যুৎ এর সমস্যা আর থাকবে না।

আবদুল মালেক/বোরহানউদ্দিন