ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহত। ছবি : সংগৃহীত

হযরত মোহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে ফেসবুকে হিন্দু যুবকের কটূক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল গত ১৮ তারিখ। আমরা এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসি। গতকাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইমাম-আলেম ও গণ্যমান্যদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করি। ওনারা আমাদের বলেন যে এ নিয়ে ওনাদের সমাবেশটি স্থগিত করবেন। তারপর আজ সকাল থেকেই দেখি ওনারা মাইক নিয়ে এসেছেন, স্টেজ বানাচ্ছেন। তখন সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শুরুতে এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, আমি গিয়ে তাদের সাথে কথা বলি। তারা আমার কথায় আশ্বস্ত হয়েছিল। ধারণা করেছিলাম সবাই চলে যাবে। আমি স্টেজ থেকে নামার পর হঠাৎ একদল জনতা আমাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। আমরা আত্মরক্ষার্থে পাশের মাদ্রাসা ভবনে আশ্রয় নেই। কিন্তু ওরা সেখানেও আক্রমণ করে। পরবর্তীতে তারা দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য তাদের গুলিতে আহত হন। তার ডান বুকে গুলি লেগেছে। যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ গুলি করে। আমরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় ৪ জন আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তাদের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন।

জানা যায়, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তার ফেসবুক আইডি থেকে তার ফ্রেন্ডলিস্টের বেশ কয়েকজনের কাছে আল্লাহ এবং রাসুল (সঃ) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজ যায়। এরপর কয়েকটি আইডি থেকে ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দেয়া হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বোরহানউদ্দিন থানায় আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে জিডি করতে গেলে থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে তাদের হেফাজতে রাখে।

সেই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকালে বোরহানউদ্দিনের ঈদগাঁ মসজিদ প্রাঙ্গণে তাওহীদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। ২০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে শতাধিক।