ভোলার মেঘনা নদীতে অবৈধ খুরছি জাল ও বেড়জাল দিয়ে অবাধে নিধন করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এসকল জাল থেকে ছোট,বড় কোন মাছই রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি কিটপতঙ্গ গুলো প্রাণে রক্ষা পাচ্ছে না।

এদিকে মাঝে মধ্যে প্রশাসন ওই সকল অবৈধ স্থাপনায় হানা দিয়ে খুরছি জালের কিছু খুটি ও জাল কেটে ফেললেও কিছু দিন পর পূর্বের চিত্রে ফিরে যাচ্ছে।

এদেরকে প্রশাসন কোন ভাবেই দমন করতে পারছে না। এদের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও কিছু সংখ্যক অর্থলোভী জেলে নেতার কারণে সরকারের নেয়া মহতি উদ্যোগ গুলো ব্যস্তে যাচ্ছে। এতে ক্ষুদ্ধ সাধারণ জেলেরা।

সূত্রমতে জানা গেছে, বোরহানউদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী হাকিমুদ্দিন পল্টুন থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে মেঘনা নদীতে রবু চর এলাকায় দীর্ঘ এলাকা অবৈধভাবে দখল করে পাশাপাশি ২টি খুরছি জালের খুটি পুতে জাহাঙ্গীর মাঝি’র নেতৃত্বে মানিক হাওলাদার, কবির মিয়া ও নাঈম হাওলাদার ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত অবাধে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবাধে নিধন করে যাচ্ছে। এ জাল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ছোট, বড় কোন মাছই। রক্ষা পাচ্ছে না কীটপতঙ্গগুলো।

এছাড়া হাকিমুদ্দিন হাট থেকে আধা কিলোমিটার পূর্ব পাশে বেড়জাল পেতে অবাধে সকল রকম মাছ শিকার করছে জাহাঙ্গীর মাঝি। এ জালে সকল প্রজাতির মাছ ও কীটপতঙ্গ মারা পড়ছে।

এতে জীব বৈচিত্রে প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে জানা গেছে, কাচকি গুড়া থেকে শুরু করে চাপলি ও জাটকা ইলিশ গুলো এসকল জালেই বেশি আটকা পড়ছে। এ জন্য জেলা ও উপজেলার ছোট বড় বাজারগুলোতে জাটকা ইলিশের সয়লাব দেখা যাচ্ছে।

এদিকে জানা গেছে, সাধারণ জেলেরা মেঘনা নদীতে জাল ফেললে মেঘনার নদীর ঢেউ ওই সকল খুরছি জাল ও বেড়জালে গিয়ে জাল পড়লে তা কেটে আনতে হয়। এতে সাধারণ জেলেরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কিন্তু খুরছি জাল ও বেড়জাল যারা দখল করে মাছ শিকার করে তারা সবাই ওই এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না। মুখ বুঝে সকল কিছুই মেনে নিতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ সত্ব্যে মেঘনার একাধিক জেলে জানান, এরা ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে অবৈধ ভাবে মেঘনা নদী দখল করে খুটি গেরে খুরছি জাল ও বেড়জাল দিয়ে অবাধে সকল প্রকারের মাছ শিকার করছে ও ওই সকল জাল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কীটপতঙ্গগুলো।

আমাদের জাল পানির ঢেউ অনেক সময় খুরছি জালে পড়লে কেটে আনতে হয়। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। কিন্তু ওদের ভয়ে কিছু বলতে পারছি না।

এব্যাপারে জাহাঙ্গীর মাঝি’র সাথে আলাপকালে তিনি জানান শুধু আমরাই এ কাজ করি না অনেকেই খুরছি জাল ও বেড়জাল পেতে মাছ ধরছে।

এব্যাপারে ভোলা জেলা মৎস্য অফিসার এস.এম আজাহারুল ইসলাম বলেন, মেঘনা নদীতে অবৈধ ভাবে খুরছি জাল ও বেড়জাল পেতে মাছ শিকার করার সুযোগ নেই। এটা অপরাধ। আমরা এসকল স্থাপনায় এরপূর্বে অভিযান দিয়ে ধবংস করেছি।

যদি আবারোও শুরু করে থাকে ওই সকল উপজেলার মৎস্য অফিসারগণ কে সাথে নিয়ে দ্রুত ওই সকল অবৈধ খুরছি জাল ও বেড়জাল উচ্ছেদ করা হবে।

-আবদুল মালেক