ভেটখালী খাদ্য গুদামের সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালি খাদ্য গুদামের জমিতে দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। আদালতের আদেশে নির্মাণ কাজ প্রশাসন বন্ধ করে দিলেও আদালতের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে।

শ্যামনগরের ভেটখালি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা এস.এম আমিনুর রহমান বুলবুল জানান, ভেটখালী খাদ্য গুদামের সরকারি জমিতে হঠাৎ করে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে হুমায়ুন কবির।

সরকারি সম্পত্তি রক্ষার তাগিদে খাদ্য গুদামের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমি আদালতে দারস্থ হই। গত ১১ জুলাই সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় প্রতিকার প্রার্থনা করি। আদালত নালিশী জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা ও স্থিতি বজায় রাখার জন্য শ্যামনগর ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

এরপর ওসি শ্যামনগর নালিশী জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার জন্য পৃথক পৃথক নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু ভূমিদস্যু হুমায়ুন কবির নির্মাণ কাজ বন্ধ না করে কাজ চালাতে থাকেন।

তিনি আরও জানান, পূনারায় ১৬ জুলাই আদালতের দারস্থ হয়ে ১৪৫ ধারায় প্রতিকার প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত নালিশী জমিতে প্রবেশ বারিত করার আদেশ প্রদান করেন। এরপরও গোপনে দোকান ঘর নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চালাতে থাকে। তবে প্রশাসনের চাপের মুখে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর আদলতে মামলাটির শুনানী দিন ধার্য রয়েছে। কিন্তু হুমায়ুন কবির হঠাৎ করে ১৮ জুলাই নালিশী জমির উপর একটি ব্যানার টানিয়ে উক্ত দাগে ০.৩০ একর জমি দাবি করেন। যা সঠিক নয় ও হাইকোর্টের রীটের সাথে তার ব্যানারের লেখা দাবিকৃত জমির কোন মিল নেই।

খাদ্য গুদামের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৪ সালের তিন অক্টোবর ভেটখালী সরকারী খাদ্যগুদামের জায়গায় দোকানঘর নির্মানের কারনে হুমায়ুন কবির নামীয় ব্যক্তিকে শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি উচ্ছেদ অভিযানের নোটিশ প্রদান করেন। সেই নোটিশের স্থগিতাদেশ চেয়ে ৯১৯৬/১৪ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন হুমায়ুন কবির। এতে মহামান্য হাইকোর্ট নোটিশের উপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেন। উক্ত রীটে সে খাদ্য বিভাগের জমির মধ্যে ২৫৬৯ দাগে ০.২০ একর জমি পাবে বলে দাবি করে। রীটের স্থগিতাদেশ এখনও চলমান আছে। তবে রিটের আদেশে জমির উপর সিস্থিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তবে হুমায়ুন কবির মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নালিশী জমিতে একটি ব্যানার টানিয়ে অবৈধভাবে খাদ্য গুদামের সরকারি জমিতে নুতন করে দোকানঘর নির্মাণের পায়তারা অব্যাহত রেখেছেন। যা আদালতের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।

অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, রাষ্ট্রদ্রোহসহ কমপক্ষে ১১টি মামলার রয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার মানিকখালি গ্রামের হাজী আবুল হোসেনের ছেলে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

তবে শ্যামনগর থানার ওসি তদন্ত আনিসুর রহমান মোল্লা বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সরকারি জমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আদেশ উপেক্ষা করে কোনরুপ নির্মাণ কাজ চালানোর চেষ্টা করলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা