ভেঙ্গে যাওয়া শকুনটারী ব্রিজ।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ার প্রায় দুই বছরেও পূনঃনির্মাণ হয়নি শকুনটারী ব্রিজ। এতে ভোগান্তিতে রয়েছেন ৪ ইউনিয়নের ২০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

উপজেলার কেদার ইউনিয়নের শকুনটারী এলাকার এই ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করতো বামনডাঙ্গা, কেদার, কচাকাটা, রায়গঞ্জ ও বল্লভেরখাস ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন ওইসব অঞ্চলের জনসাধারণ।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বন্যা হয়। এই বন্যাতেই ভেঙ্গে যায় ব্রিজটি। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছে ওইসব অঞ্চলের জনসাধারণ। স্কুল কলেজে যেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। প্রভাব পড়ছে, স্থানীয়দের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবন জীবিকায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কচাকাটা-কেদার ইউনিয়নের আর্মি মোড় থেকে আয়নালের ঘাট যাওয়ার পথে কাইম টেপারকুটি (কুড়ারপাড়) নামক ভাঙ্গা রাস্তায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের অর্থায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহী কন্সট্রাকশন ২০১৭ সালে ৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫০ফুট দৈর্ঘের একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। যা ওই বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তার কয়েকদিন যেতে না যেতেই ১৫ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায় ব্রিজটি। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে ওই পথে চলাচলকারী কচাকাটা, কেদার, রায়গঞ্জ, বল্লভেরখাস, বলদিয়া, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া, শকুনটারী, দামালগ্রাম, পাঁচমাথা, মুড়িয়া, বড়বাড়ী, সাপখাওয়া, পুটিমারী, চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়িসহ ২০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় আমজাদ হোসেন, আবুল কাসেম, আল-আমিন বাবু, নুর আলম জানান, এর আগেও এখানে পরপর দুটি ব্রিজ ভেঙ্গে গেছে। এবারও একইভাবে ভেঙ্গে গেছে এই ব্রিজটিও। এছাড়াও এখানে পাইলিং করে একটি ব্রিজ নির্মান করলে তা টেকসই হবে বলেও মন্তব্য করেন এলাকাবাসী। তাই অবিলম্বে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের দাবিও জানান তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর বলেন, ওই ব্রিজের ব্যাপারে আমার কোনো খবর জানা নেই।

শফিকুল ইসরাম শফি/নাগেশ্বরী