নেপালে ভুমিকম্পে বিধ্বস্ত কয়েকটি বাড়ি। ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশে গত প্রায় নব্বই বছরে কোন বড় মাপের ভূমিকম্প হয়নি। তবে ১৮৬৯ থেকে ১৯১৮ এই ঊনপঞ্চাশ বছরে বর্তমান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সীমন্তের খুব কাছাকাছি বড় বড় চারটি ভূমিকম্প হয়েছিল। এখানে গত দেরশো বছরে বাংলাদেশ এবং এর আশেপাশে ৭ মাত্রার উপরে যেসব ভূমিকম্প হয়েছিল সেগুলোর বর্ণনা দেয়া হচ্ছে:

  • ৮ জুলাই ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ২ জুলাই ১৯৩০ সালে ধুবরী, আসামে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ৩ জুলাই ১৯৩৪ সালে ধুবরী, আসামে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ১৫ জানুয়ারী ১৯৩৪ বিহারে ৮.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ১৫ আগস্ট ১৯৫০ সালে উত্তর আসামে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ১০ জানুয়ারী ১৮৬৯ সালে শিলচড়ে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ১৪ জুলাই ১৮৮৫ সালে মানিকগঞ্জে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
  • ১২ জুন ১৮৯৭ সালে শিলং, মেঘালয়ে ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

ভূমিকম্প প্রাকৃতিক দূর্যোগ গুলোর মধ্যে খুবই বিধ্বংসী একটি । কারণ ভূমিকম্প সাধারণত কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই সংঘটিত হয়ে থাকে। তাই এর ক্ষয়ক্ষতিও অনেক বেশি হয়ে থাকে। ভূমিকম্প যেহেতু আচমকা সংঘটিত হয়ে থাকে সেহেতু অনেকেই তাৎক্ষণিক বুঝে উঠতে পারেন না কী করবেন। তবে একটু সচেতন হলে এবং কয়েকটি বিষয় মেনে চললে সহজেই ভূমিকম্পের ধাক্কা থেকে যথাসম্ভব নিরাপদে থাকা যায়।

চলুন জেনে নেয়া যাক ভূমিকম্পের সময় আপনার করনীয় কি?

১. ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।

২. ভূকম্পনের সময় বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোন আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন।

৩. রান্না ঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসুন।

৪. বীম, কলাম ও পিলার ঘেষে আশ্রয় নিন।

৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে শিশুদের স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে বলুন।

৬. ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দুরে খোলাস্থানে আশ্রয় নিন।

৭. গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না করে দুহাত মাথা ঢেকে বসে পড়ূন।

৮. ভাঙ্গা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়া চড়ার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলা বালি শ্বাসনালিতে না ঢোকে।

৯. একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।

১০. উপর তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে বা লিফট ব্যবহার করে নামা থেকে বিরত থাকুন।

১১. কম্পন বা ঝাঁকুনি থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিন।

১২. গাড়ীতে থাকলে ওভার ব্রীজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ী থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ীর ভেতরে থাকুন।

১৩. ব্যাটারীচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে রাখুন।

১৪. বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করুন।

সূত্রঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

আজকের পত্রিকা/মির/এমএইচএস