প্রতীকী ছবি।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পল্লীতে দুই যুবক মিলে এক গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে পরবতীঁতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্মই মাহাতবস্তী গ্রামের জনৈক দিনমুজুরের স্ত্রী এক সন্তানের জননী (২৩) গত ৭ মে সকাল সাড়ে ১১টায় বাড়ীর অদূরে ভুট্টা ক্ষেতে ঘাঁস কাটতে যান। এসময় দক্ষিণ মেরধাপাড়া গ্রামের তারাব উদ্দীনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও প্রতিবেশী মরহুম মন্দিল হকের ছেলে দুলাল হোসেন (২৫) পিছন দিক থেকে গৃহবধূকে জাপটে ধরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে রাখে।

পরবর্তীতে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে দুই ধর্ষক তার বাড়ীতে গিয়ে আবারও ধর্ষণ করে। ধর্ষকরা এ ঘটনা ফাঁস না করার জন্য গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকী অব্যাহত রাখে। নিরুপায় হয়ে ঘটনার কথাগুলো কাউকে না জানিয়ে মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে স্বামীর সাথে ঘর সংসার করতে থাকেন ওই গৃহবধু। এক পর্যায়ে ধর্ষকেরা ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। প্রতিবেশী নাজমুল হোসেনের তা নজরে আসে।

পরে নাজমুল ধারণকৃত ভিডিও ডাউনলোড করে ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে দেখালে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। পরে গৃহবধূ স্থানীয় থানায় ধর্ষকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে ধর্ষক সাদ্দাম হোসেনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে ঠাকুরগাঁও জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসাব্বেরুল হক জানান, পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে গৃহবধূ বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীকে গ্রেফতার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভিক্টিমের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস