হজযাত্রী।

এবার হজের ভিসায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ বছর থেকে হজের ভিসার আবেদনের সঙ্গে বিমানের টিকেট দাখিল করতে হবে। টিকেট ছাড়া ভিসা ইস্যু করা হবে না।

আশকোনা হজ ক্যাম্পে পাসপোর্ট জমা দেয়ার আগেই ভিসার অন্যতম শর্ত হিসেবে টিকেট জুড়ে দেয়া হয়েছে। বিমান টিকেট ছাড়া হজ ভিসার জন্য কোন পাসপোর্ট জমা নেয়া হবে না। বিমান টিকেটের সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী কোন্ দিন কোন্ ফ্লাইটে কটার সময় মক্কা কিংবা মদিনায় যাচ্ছেন তার উল্লেখ থাকতে হবে। এদিকে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে বিমানের টিকেট বিক্রি।

২০ মে সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হজ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কিত এক জরুরী বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

আজ সোমবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হজ ব্যবস্থাপনা-২০১৯ এর অগ্রগতি বিষয়ে এ সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী, ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মুহিবুল হক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী হাসান আহমেদ, যুগ্ম সচিব (হজ) এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী, হজ্জ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ লি. এবং সাউদিয়া এয়ার লাইন্স এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, এ বছর হজ এজেন্সিগুলো ঢাকার আশকোনাস্থ হজ অফিসে ভিসার আবেদনের জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় বিমানের টিকিটসহ জমা দিতে হবে। বিমানের টিকিট ছাড়া পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া হজের ফ্লাইট চলাকালীন এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম ও অগ্রগতি তদারকি করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ৩টি টীম সার্বক্ষনিক কাজ করবে। সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয় যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স লি. এবং সাউদিয়া হজ এজেন্সিগুলোর কাছে সরাসরি টিকিট বিক্রি করবে।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশেই সম্পন্ন হবে। এছাড়া এরইমধ্যে আজ থেকে বিমান হজযাত্রীদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু করেছে।

এদিকে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এই প্রশিক্ষন চলবে। প্রতিদিন ৫শ জন করে প্রশিক্ষন নিতে পারবেন।

গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সম্মেলন কক্ষে একটি ভেন্যুতে এবং আশকোনা হজক্যাম্পে মোট চারটি ভেন্যুতে ঢাকার হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ চলবে। এছাড়া সকল জেলায় ইতোপূর্বে নিবন্ধনের সময় যে জেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পছন্দ দিয়েছেন, তারা সেখানে প্রশিক্ষণ নেবেন।

ইতোমধ্যে প্রত্যেক হজযাত্রীর মোবাইল ফোনে তাঁদের ভেন্যু এবং তারিখ জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। কেউ এসএমএস না পেলে তাকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয় অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস