ভিক্ষুক ক্ষীরবালা

দু‘বেলা যার পেটে ভাত জুটতো না, দু‘মুঠো চালের জন্য বর্ষার কাদায় হাঁটতে হয়েছে মাইলের পর মাইল মেঠো পথ, এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি। স্বামীহারা অসহায় ক্ষিরবালাকে অর্ধাহারে-অনাহারে কাটাতে হয়েছে দিনের পর দিন। সেই ক্ষিরবালা আজ তার জীবনের শেষ সময়ে এসে পেলো মাথা গোঁজার ঠাঁই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ক্ষিরবালার মুখে এক চিলতে হাসি দেখে মনে হলো পৃথিবীর সবচেয় খুশি তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চার টায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ২ং কাটলা ইউনিয়নকে শতভাগ ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করেন দিনাজপুর জেলাপ্রশাসক মো.মাহ্মুদুল আলম।

বিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২ং কাটলা ইউনিয়ন চত্তরের এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো.নাজির হোসেন। সভায়, ওই ইউনিয়নের ২৬ জন ভিক্ষুককে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

এদের মধ্যে ওই দিন ৬ জন ভিক্ষুককে ব্যাটারি চালিত ভ্যান, ৬ জনকে থাকার ঘর, ৬ জনকে বিধবা ভাতা, ৩ জনকে বয়স্ক ভাতা এবং ২ জনকে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করেন। এবং বাকী ভিক্ষুকদের নাতী নাতনীকে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভিক্ষাবৃত্তিকরা কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিন হরিরামপুর গ্রামের ক্ষিরবালা (৭০) জানান, স্বামী মারা যার পর পেটের দায়ে তিনি ভিক্ষা করেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। তার এক ছেলে উজ্জল রায় নিজের সংসার নিয়ে আলাদা ভাবে থাকে। থাকার ভাঙ্গা একটি ঘর থাকলেও শুতে হয় মাটিতে। তাই ইউএনও স্যার আমাকে একটি থাকার ঘর আর ছেলে উজ্জল রায়কে একটি ভ্যান প্রদান করেন। এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।

ভিক্ষুকমুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণায় কর্মসূচি

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.তৌহিদুর রহমান জানান,কাটলা ইউনিয়নের ২৬ জন ভিক্ষুকদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে বেশকয়েকদিন ধরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পল্লী স য় ব্যাংক ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে,ওই কর্মকর্তাগণের দেয়া তথ্যে কাউকে থাকার ঘর, কাউকে ভ্যান,কাউকে বয়স্ক ভাতা এবং কাউকে বিধবা ভাতা দিয়ে এই ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো.মাহমুদুল আলম বলেন,দেশ যেমন নিম্ম আয়ের দেশ থেকে নিম্ম-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সকল গ্রামকে শহরে পরিনত করার কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ হলো- দেশে কোন মানুষ যেন ভিক্ষাবৃত্তি না করে। তাই পর্যায়ক্রমে এই ইউনিয়নের মতো সারাদেশকেই ভিক্ষুক মুক্ত করা হবে।
আপনারা নিশ্চয় জেনেছেন যে দিনাজপুর একটি অর্থনৈতিক অ ল হতে যাচ্ছে। সামনে দিনাজপুরে গ্যাস সংযোগ আসছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান,উপজেলা চেয়ারম্যান মো.খায়রুল আলম রাজু, থানা ওসি মনিরুজ্জামান মনির, ভাইস চেয়ারম্যান মেসবাউল হক,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম, ওই ইউনিয়নের ২৬ জন ভিক্ষুক,ইউপিসদস্যসহ এলাকার সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।

মো.মাহাবুর রহমান/বিরামপুর