বাংলাদেশের এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ‘ভাসমান সিনেমা’ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন, যেখানে একের পর এক সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি যেমন কথা বলেছেন। জানিয়েছেন জলের উপর ভাসমান সিনেমা হল নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের পরিকল্পনাও।

পাঠকদের জন্য রাশেদ জামানের স্ট্যাটাস তুলে দেওয়া হলো-

“ভাসমান সিনেমা: FLOATING CINEMA

ইমারত অথবা স্হাপনার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একটার পর একটা সিনেমা হল। বহুতল ভবন যেহেতু অনেক বেশী লাভজনক, তাই মন্দা আর মেধাশূন্যতার বাজারে হল মালিক পক্ষকে কোনোভাবেই অন্তত আমি দোষারূপ করতে পারি না।

অনেক বছর ধরে একটা আপাতত পাগলামী আইডিয়া মাথায় ঘুরছে। নদীমাতৃক দেশে সিনেমা হল কেন স্হলেই হতে হবে? জলের উপর ভাসমান হলে সমস্যা কোথায়? বাংলাদেশের মতো আর কোনো দেশে এতগুলো এত বড় বড় নৌযান এত সময় ধরে নৌপথে যাতায়ত করে না মনে হয়। ঢাকা- বরিশাল/ভোলা/ পটুয়খালী নানা জেলায় যাতায়াতরত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরী অসাধারণ নৌযানগুলোর ছাদগুলোকে কেন আমরা ব্যাবহার করছি না!

একটা ভালো মানের home theatre with A class sound system স্টিমার/লঞ্চের ছাদে বসানো মালিক পক্ষের জন্য নগন্য টাকা মাত্র। Open Air আইডিয়াতেই শুরু হতে পারে এই চলন্ত ভাসমান সিনেমা হল। আস্তে আস্তে উন্নত হবে এর স্হাপত্য। Show time এ ছাদে উঠতে হলে নির্ধারিত টিকেট মূল্য ধরা হোক। এই পুরো ব্যাপারটার নাম হতে পারে FLOATING CINEMA.

‘রুপলাল হাউজ’ পেঁয়াজের আড়ৎ না হয়ে যেমন হতে পারে বুড়িগঙ্গার পাড়ে মনোরম কোনো নবাবী কায়দার Heritage Hotel, ঠিক তেমনই আমাদের লঞ্চগুলো যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি হতে পারে ভাসমান সিনেমা হল। নদীর দেশের মানুষ সারারাত চলন্ত ভাসমান সিনেমা হলে গন্তব্যে যেতে যেতে শিস বাঁজিয়ে নাচানাচি করে অথবা কেঁদেকেটে চোখের জল একাকার করে সিনেমা উপভোগ করতেই পারে।

আমার ভাবতেই ভালো লাগে, নদীর পারে দাঁড়িয়ে দেখছি বিশাল এক সিনেমা হল, আমার সামনে দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। অথবা কখনো হয়তো বন্ধু বান্ধব নিয়ে নৌভ্রমণে যাবো বিশেষ কোনো সিনেমার শুভ মুক্তি দেখতে।

সিনেমা কেন কাকরাইল কেন্দ্রীক রাজনীতির পরীক্ষায় পাশ করে শুধুমাত্র সিনেপ্লেক্স অথবা মধুমিতা/অভিসারে মুক্তি দিতে হবে?সুন্দরবন-৯’র ছাদে কেন কোনো সিনেমা মুক্তি পেতে পারে না? ক্ষতি কী তাতে? সদরঘাটে দিনের বেলা বাঁধা এক একটা লঞ্চ হতে পারে এক একটা ভাসমান চলন্ত সিনেমা হল, যেখানে মাঝ নদীতে এসি ছাড়াই হু হু করে বাতাস বইবে।

সিনেমা জলে ও স্থলে একযোগে মুক্তি দেওয়া হোক। সিনেপ্লেক্সের ভাসমান শাখা খোলা হোক। শুনতে ভালোই লাগবে, পরিচালক নূরুল আলম আতিকের সিনেমা ‘মানুষের বাগান’র শুভমুক্তি আগামী শুক্রবার পারাবত-৪ এ। সময় ৬ টা, ৯টা ও ৩ ঘটিকায়।

মেজবাউর রহমান সুমনের সিনেমা ‘হাওয়া’ জলের ছবি, স্থলের না। ওয়াহিদ তারেকের ‘আলগা নোঙ্গর’ আর ‘হাওয়া’ দিয়ে শুরু হোক FLOATING CINEMA’র যাত্রা। তবে উদ্বোধনী শো তে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং ‘সারেং বউ’ না দেখালে ওস্তাদদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে যাবে কিন্তু।

আমার এই সব কথাবার্তা আপনাদের কাছে পাগলামী মনে হলেও আমার কাছে মোটেই তা মনে হচ্ছে না। দয়া করে সহৃদয় কোনো লঞ্চ মালিক কি এগিয়ে আসবেন? আমার যতটুকু স্হাপত্য জ্ঞান আছে, আমি বিনা পারিশ্রমিকে ঢেলে দেবো। চলেন না এই পাগলামীটা করেই দেখি।”

আজকের পত্রিকা/সিফাত