তখন বণিক বার্তায়। ফারুক ভাইয়ের জন্মদিন ছিল। বড় এক প্যাকেট তিলের খাজা কিনি। এর উপর লিখি: ‘তিলে তিলে অভিজ্ঞতায় পূর্ণ জীবন… ৭৫ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা !!!’ রুমে ঢুকলাম। বসের হাতে দিলাম। ফারুক ভাই নিলেন। লেখা পড়ে বললেন, ‘৭৫ বানায়া দিছোস? তোর মাইর পাওনা হইছে।’ প্রায় সবাইকেই ‘আপনি’ ডাকতেন। কোনো এক ফাঁকে আমি বোধহয় তার কোনোখানে ঢুকতে পেরেছিলাম। নইলে আমাকে ‘তুই’ ডাকতেন কেন?

বাংলাদেশে ফিচার সংবাদিকতা পূর্ণতা পাবে না তাঁকে ছাড়া। যেহেতু আমি শুধু তাঁকে প্রিন্টেই পেয়েছি। আমার তাই মনে হয়। ঈদ সংখ্যা, বেশ কয়েকটা বিশেষ সংখ্যা করেছি তার সাথে। প্রতিদিন পাতাও দেখাতে হতো। এই টেস্টের মানুষ আমি আর পাই নাই জীবনে। আমরা যেহেতু ফিচারে কাজ করতাম। একটা কথা খুব বলতেন। সেটা হচ্ছে ‘মুখস্ত ফিচার ‘। মুখস্ত আইডিয়া, মুখস্ত চিন্তা, মুখস্ত ফিচারে তাঁর এলার্জি ছিল।

ফারুক ভাই ডে-অফ নিতেন না। আমরা ডে- অফ চাইলে বলতেন, ‘ডে-অফ কী খায় না মাথায় দেয়?’ (আমরা পোস্টারিং করেছিলাম এটা নিয়ে!) ভীষণ ফ্রেন্ডলি একটা অফিস কালচারে বিশ্বাস করতেন। যেটা মালিক পক্ষ বোঝেনি কোনো দিন। তাঁর সব বন্ধু অফিসে আসতেন। আমাদেরও বলতেন, বন্ধুদের অফিসে ডাক।

আমরা ‘এফ বস’ ডাকতাম তাঁকে। গোঁফ রাখার পর তার নাম দেওয়া হয়: ‘কর্নেল’। কর্নেলটা ফারুক ভাইয়ের বেশি পছন্দ হয় নাই। উনি বলতেন, কর্নেলের উপরে কে? মেজর? না জেনারেল? আমরা তখন ভুঙভাঙ দিয়ে বলতাম, বস, এইটা মার্কেজের ‘কর্নেল কে কেউ চিঠি লেখে না’র কর্নেল। কখনোই মনে হয় না ফারুক ভাই নাই। মনে হয় কাওরান বাজার গেলেই তার সাথে দেখা হয়ে যাবে।

শহরের মিডিয়া হাউজগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার শিষ্যরা। একই দিনে মৃত্যু হওয়ায় ফারুক ভাইয়ের মৃত্যুদিন পালিত হয় না। সবাই জন্মদিনের উইশ করে। প্রতিবার ফারুক ভাই জন্ম নেন। কোনো তরুণতম প্রতিভা যখন মুখস্ত জীবনের বাইরে খোঁজে অন্য কিছু, তখনই হয়তো ফারুক ভাই ধরা দেন। যে মানুষটি শুধু ভালোবাসতেন আমাদের!