রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই বেপরোয়া হয়ে উঠে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীরা। এসবের কবলে পড়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া ক্যাম্পাসের বাহিরে মেসে থাকতে গেলে মেস কিংবা বাসার মালিকেরা অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করেন।

এসব নিয়ে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কার্যত ‘যেই লাউ সেই কদু’র মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

প্রতিবারের এসব অস্বস্তিকর অবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই জানান, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনতাই করতে ওত পেতে থাকে দুর্বৃত্তরা। ভিতরে বা বাহিরে কোনো না কোনো স্থানে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির শিকার হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ও কাজলা গেট, মেহেরেচন্ডি, জুবেরী মাঠ, ইবলিশ চত্বর, তুঁতবাগান, প্যারিস রোডসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘটে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা।

এসব ছিনতাইয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার বখাটে ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আশ্রয় নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী মেসসমূহে। মেস মালিকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করেন। হলের ভিতরে শিকার হতে হয় র‌্যাগিং এর। ক্যাম্পাসের পথেঘাটে অগণিত স্টল বসায় চলতে ফিরতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করছেন। অভিভাবকদের থাকার সুবিধার্থে জায়গা করা হচ্ছে তবে হলের ভিতর অভিভাবকরা থাকতে পারবেন না বলেও ঘোষণা হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে কোনো স্টল বসাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ইতোমধ্যে স্টলের জন্য জায়গা বরাদ্দ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মেস মালিক সমিতি বরাবরের মতো বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন।

মেস মালিক সমিতি জানান, এবার কোনো মেস মালিক অর্থ আদায় করবেন না। আগত শিক্ষার্থীদের সম্মানের সহিত জায়গা দেওয়া হবে। কোনো অসুবিধার শিকার হলে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবার স্পেশালভাবে নিরাপত্তা দিবেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসের ভিতরে যেসব স্টলের জায়গা বরাদ্দ হয়েছে তা তুলে দেওয়া হবে। আমরা এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুবিধার ব্যাপারে সকলের সহযোগীতা আশা করছি।

একাধিক শিক্ষার্থী বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রতিশ্রুতি নামক মুলা ঝুলিয়ে রাখে। শেষ পর্যন্ত ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অর্থ আদায়, র‌্যাগিং, হয়রানি চলেই। প্রশাসন এ ব্যাপারে সজাগ হোক সেটা আশা করি। ঘোষণাগুলো অন্তত ফলপ্রসু হোক।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি