মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার অন্যতম সড়ক হলো বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়ক। ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার অন্যতম সড়ক হলো বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কের জাগিয়ার পুল ঘেঁসে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে পৌরসভা। এতে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দুর্গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলছে। পৌরকর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, এই রাস্তা দিয়ে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর, নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাসিন্দা, পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি কলেজ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুইটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে বড়লেখা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ পার হলেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে আ লিক মহাসড়কের (শহরের প্রবেশ মুখে) ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় সাড়ে তিন বছর থেকে বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়কের জাগিয়ার পুল এলাকায় সড়কের পাশে প্রতিদিন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে বড়লেখা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এর আগে পৌরসভার গাজিটেকা এলাকায় শহরের প্রবেশ মুখে ময়লা ফেলা হতো। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের ফলে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করেছিল পৌরকর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে শহরের সব আবর্জনা ময়লাবাহী ট্রাকযোগে সেখানেই ফেলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের প্রবেশমুখেই আবর্জনা ফেলায় নাকে রুমাল চেপে মানুষকে শহরের ঢুকতে হচ্ছে। পাশাপাশি মানুষকে স্থায়ী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী এই বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার পৌরকর্তৃপক্ষের দারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি।

জাগিয়ার পুল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তুূপ। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কাপড়ে নাক ঢেকে চলছেন পথচারীরা। উপজেলার বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়কের জাগিয়ার পুল এলাকায় প্রতিদিনের চিত্র এটি।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এখানে ফেলায় মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। মেয়র মহোদয়কে অনেক বার বলেছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিং-এ আলোচনা হয়েছে। তিনটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই বিষয়টি উত্তাপন করেছেন। কিন্তু পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘মানুষের আশা-যাওয়ার স্থানে আবর্জনা ফেলা ঠিক নয়। যেখানে মানুষের চলাচল কম সেখানে ফেলা দরকার। আবর্জনার এই গন্ধে শ্বাসনালিতে ইনফেকশন হয়ে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে আবর্জনা ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।’

এ ব্যাপারে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘পৌরসভার আইনে ময়লা শহরের বাইরে ফেলার কথা। আগে ষাটমা ব্রিজের পাশে ময়লাগুলো ফেলা হতো। ষাটমা নদীতে চলন্ত পানি। ময়লাগুলো সমস্যার সৃষ্টি করছিল। পরবর্তীতে রেল ও সিঅ্যান্ডবির মধ্য এলাকায় পর্যাপ্ত জায়গা দেখে ময়লা ফেলার চিন্তা করি। পরে একটা আবেদন দিয়ে সেখানে ফেলা শুরু করি। নির্ধারিত কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বিকল্প জায়গার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস/এমএইচএস