দেশে প্রথমবারের মতো ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এবং গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে নিয়ে এলো গবাদিপশু খামারিদের জন্য প্রাণিসম্পদ বীমা কাভারেজ সুবিধা। দুর্ঘটনা, রোগ বা প্রসবকালে গবাদিপশুর মৃত্যু অথবা যেকোনো রকম আংশিক অক্ষমতার কারণ ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে এই স্কিম গবাদিপশু খামারিদের জন্য সহায়ক হবে।

গ্রাহকদের জন্য অভিনব আর সময়োপযোগী প্রোডাক্ট চালু করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কোম্পানি দুটি এই নতুন সুবিধাটি চালু করল। এজন্য এনএফসি সম্বলিত কলার ট্যাগ দিয়ে পশু শনাক্তকরণ ও নজরদারিরও একটি বিশেষ আধুনিক পদ্ধতির সূচনা করেছে গ্রীন ডেল্টা, ফলে বীমার দাবি মেটানোর প্রক্রিয়াটিও সহজ আর সুবিধাজনক হবে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু এই ‘ক্যাটল শিল্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন এবং গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী ছাড়াও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও হেড অব নিউজ শাইখ সিরাজ, ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই ব্যাংকিংয়ের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন, গ্রীন ডেল্টার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘শুরু থেকেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তি আর সমৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় অর্থায়নে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক। প্রযুক্তির সাহায্যে চালুকৃত এই নতুন অভিনব সুবিধাটি বিশেষত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গবাদিপশু খামারিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ে আমাদের দায়বদ্ধতারই আরও একটি প্রমাণ।’

তিনি বলেন, ‘এই বীমা সুবিধা গবাদিপশু পালন খাতটি আরও সমৃদ্ধির সুযোগ এনে দেবে। ফলে আরও উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে গবাদিপশু পালনে উৎসাহী হবেন। বিশেষত দেশের গ্রামাঞ্চলের খামারিদের স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

গ্রীন ডেল্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী বলেন, ‘গবাদিপশু খামারিদের জন্য দেশের সর্বপ্রথম বীমা কাভারেজ চালু করতে পেরে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স অত্যন্ত আনন্দিত। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক খামারিকে এই ব্যবসায় আসতে উদ্বুদ্ধ করে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। আমরা খামারিদের সুবিধার্থে একটি সহজ, সরল ও দ্রুত দাবি পরিশোধ প্রক্রিয়াও নিয়ে এসেছি। দেশের বীমাখাতের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নতুন বীমা প্রকল্প চালুর ধারাবাহিকতা আমরা আগামীতেও অব্যাহত রাখবো।’

এই উদ্যোগটিতে বিএফপি-বি (বিজনেস ফাইন্যান্স ফর দ্য পুওর ইন বাংলাদেশ) চ্যালেঞ্জ ফান্ডের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা লন্ডনের নাথান অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের ( ডিএফআইডি) একটি প্রকল্প। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।