ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত

সম্প্রতি ব্রিটেনের এক গবেষণা অনুযায়ী, রোমান্স স্ক্যাম বা প্রেমে প্রতারণার শিকার নারীরা বেশি হচ্ছেন পুরুষদের তুলনায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রোমান্স স্ক্যামের কারণে গড়ে প্রত্যেকে ১১,১৩৫ পাউন্ড অর্থ হারিয়েছেন। পুলিশের রিপোর্টিং সেন্টার ‘অ্যাকশন ফ্রড’ এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রায় পাঁচ কোটি পাউন্ড লুট হয়েছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।

এছাড়াও অ্যাকশন ফ্রডে রোমান্স জালিয়াতির ৪৫৫৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে এই প্রতারণার মূল সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্টিমরা এই বিষয়গুলোকে সামনে আনে না। নীরবে এই কষ্ট ও ক্ষতির বোঝা বয়ে বেড়ান।

অ্যাকশন ফ্রডের তথ্য অনুযায়ী, রোমান্স স্ক্যামের শিকার নারী পুরুষের গড় বয়স ৫০ বছর। তার মধ্যে ৬৩% নারী। নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে দুই গুণ বেশি অর্থ-সম্পদ হারায়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে রোমান্স স্ক্যামের এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অনলাইন ডেটিং ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে প্রতারকরা। তারা ফেইক প্রোফাইল ব্যবহার করে ভিক্টিমদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতারকরা মূলত মিথ্যা প্রেমের জাল বিছিয়ে রোমান্সের ভান করে ভিক্টিমের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে। সাধারণত তারা নানা কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। আবার অনেক সময় তারা অর্থ সম্পদ লুট করতে রোমান্সের ফাঁদে ব্যক্তিগত সব তথ্য হাতিয়ে নেয়।

সিটি অব লন্ডন পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ বিভাগের কমান্ডার কারেন ব্যাকস্টার বলেছেন, ‘প্রতি বছর রোমান্স জালিয়াতির ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্তরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তেমনি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ছেন।’