মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে বিভিন্ন ধরণের অফার রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার যদি ব্যাংক সলভেন্সি থাকে বা আপনি কোন চাকরি করছেন তাহলে খুব সহজেই ব্যক্তিগত লোন পাবেন। ব্যক্তিগত লোনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও রয়েছে। আসুন যেনে নেয়া যাক কিভাবে আপনি এই লোনটি পেতে পারেন। এবং এর অসুবিধাগুলোও জেনে নেই।

ব্যক্তিগত লোনের সুবিধাঃ

  • সহজেই পাওয়া যায়ঃ

এই লোনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এইটা খুব সহজে নেওয়া যায়। ব্যক্তিগত লোন আপনার দুর্দিনে অন্ধের ষষ্ঠী হিসেবে কাজ করে কেননা যখন খুবই জরুরিভাবে টাকা দরকার হয় তখন একমাত্র ব্যক্তিগত লোনই আপনাকে একদিনের মধ্যে অনেকগুলো টাকা দিতে পারে। শুধু সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংকই না, বিভিন্ন ননব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যক্তিগত লোন দিয়ে থাকে।

  • একেবারে ঝামেলা মুক্তঃ

ব্যক্তিগত লোন খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায় কারণ কাগজ পত্রের ঝামেলা কম। ব্যক্তিগত লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় না এ কারণে নমিনির ঝামেলাও নেই। কোন শর্ত ছাড়ায়, শুধুমাত্র আপনার উপর ভরসা করে আপনাকে ব্যক্তিগত লোন দেওয়া হয়।

টাকা খরচের স্বাধীনতাঃ

ব্যক্তিগত লোন আপনাকে লোনের টাকা খরচের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। কিন্তু অন্যান্য লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কোন না কোন নির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হয় এবং কাগজপত্র দেখাতে হয় আপনার কথার সত্যতা প্রমানের জন্য। কিন্তু ব্যক্তিগত লোন আপনি যেকোনো কারণে নিতে পারেন এবং সেইটা আপনার পছন্দমত কাজে যেমনঃ আপনার বা পরিবারের কারো বিয়ের জন্য, বাসা মেরামতের জন্য, চিকিৎসার জন্য, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধের জন্য… এসকল কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

  • নিজস্ব পরিচয়েই লোন পাওয়া যায়ঃ

সকল সরকারী এবং বেসরকারী ব্যাংকগুলো কালান্তরেই তাদের খরিদ্দারের জন্য ব্যক্তিগত লোনের ব্যবস্থা করে থাকে। সাধারণত সরকারী চাকরিজীবী বা অন্যান্য… যেমনঃ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টরা ব্যক্তিগত পরিচয়ে সহজেই এই লোন পেয়ে থাকে।

  • অধিক লোনের সুবিধাঃ

স্বল্প ইন্টারেস্টে অধিক লোনের সুবিধা শুধু ব্যক্তিগত লোনেই পাওয়া যায়। এই কারণে ব্যক্তিগত লোনের গ্রাহক বেশি থাকে।

ব্যক্তিগত লোনের অসুবিধাঃ

  • সহজে লোন গ্রাহ্য নয়ঃ

অন্যান্য লোনের চেয়ে ব্যক্তিগত লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো খুবই বিচার-বিবেচনা করে। কারো ব্যক্তিগত তথ্যে একটু ভুল থাকলে লোনদাতা ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে লোন দিতে সরাসরি নাকচ করে দেয়। একেক ব্যাংকে একেক ধরনের তথ্য চাওয়া হয় সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তবে প্রতিটা ব্যাংকে আপনার ক্রেডিট কার্ডের হিস্ট্রি অবশ্যই দেখবে। যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি উনিশ-বিশ আছে তারা কোনভাবেই লোন পাবে না। আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রি একটু নড়বড়ে মানে আপনি কোন ব্যাংক থেকেই লোন পাচ্ছে না সুতরাং ক্রেডিট হিস্ট্রির ক্ষেত্রে সচেতন হন।

  • অধিক ইন্টারেস্টঃ

ব্যক্তিগত লোনে অনেক বেশি পরিমাণ ইন্টারেস্ট নেওয়া হয় কারণ ব্যক্তিগত লোন অনিশ্চয়তার উপর দেওয়া হয়। কোন গ্রাহক যদি ঠিকমত লোন পরিশোধ না করে তবে ব্যাংকের কিছুই করার থাকে না। তাই ব্যাংকের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য অনেক বেশি পরিমাণ ইন্টারেস্ট নেওয়া হয়ে থাকে গ্রাহকের কাছ থেকে।

  • আলাদাভাবে কিস্তি পরিশোধের অসুবিধাঃ

ব্যক্তিগত লোনের আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে, কোন প্রতিষ্ঠানই আপনাকে আলাদা ভাবে লোনের কিস্তি পরিশোধের সুযোগ দিবে না। অর্থাৎ আপনি যখন লোন পরিশোধ করবেন তখন আপনাকে লোনের কিস্তির সাথে ইন্টারেস্টের টাকাটাও পরিশোধ করতে হবে।

  • ব্যক্তিগত লোন নেওয়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেনঃ

আপনাদের আর্থিক দুর্দিনে ব্যক্তিগত লোনই সবচেয়ে উপকারি এবং সহায়ক বন্ধু। তবে ব্যাংক বিচার-বিবেচনা না করে আপনাকে লোন দিবে না। ব্যক্তিগত লোন দেওয়ার আগে ব্যাংক দেখবে, আপনাকে লোন দিয়ে তাদের কতটা উপকার হবে। তাই লোন নেওয়ার আগে কয়েকটা ব্যাংকে ভালোভাবে খোঁজ নিন। তারপর দিয়ে লোন নেন। কারণ বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন অ্যামাউন্টের ইন্টারেস্ট নিয়ে থাকে।

কোন কোন ব্যাংক গ্রাহকের চাকরীর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। আপনি লোন নেওয়ার আগে লোনের ফর্মটা ভালোভাবে পড়ুন, কোন একটা অপশনও বাদ না যায়।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/এমএইচএস