৫নং উ: পূর্ব বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনী তীরে ৫নং উ: পূর্ব বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয় পানির সংকট, শিক্ষক সংকট, খেলাধূলার মাঠ নেই, ভবনের ছাদ খসে পড়া সহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে।

এ বিদ্যালয়টি মেঘনা নদীর জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর। জোয়ার আসার পূর্বেই স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যেতে হয়। আকাশে একটু মেঘ দেখলেই আতংকিত হয়ে পড়ে ছোট ছোট কমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সূত্রে মতে জানা গেছে, মেঘনী নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে স্কুলের মাঠের অনেক অংশ ভেঙ্গে যায়। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নেই, খাবার পানির সংকট অনেক দূর থেকে পানি আনতে হয়, ভবনটি অনেক পুরাতন হওয়ায় ছাদ খসে পড়েছে, বিদ্যালয় ৯ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ৫ জন সহকারী শিক্ষকের পদই শূণ্য রয়েছে প্রায় ৫ বছর যাবত। বর্তমানে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪০ জন। নানাবিধ সমস্যা নিয়ে কোন রকম পাঠদান কার্যক্রম চলছে ।

৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা বেগম, ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী নুরনাহার ও ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মো: সোহাগ জানান, বর্ষা হলে জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। জোয়ার আসলে স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়। না হলে আমরা বাড়ীতে যেতে পারি না। পানি খেতে পারি না। স্কুলের মাঠ নেই আমরা খেলাধূলা করতে পারি না।

যখনই আকাশে মেঘ ধরে তখন আমরা অনেক ভয় পাই। মেঘনার নদীর ভাঙ্গনে আমাদের স্কুলের পূর্ব পাশ একে বাড়ে ভেঙ্গে যায়। এখন ব্লক দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পড়াশুনার ভালো ব্যবস্থা নেই। স্কুলটি খসে খসে পড়ছে। তাই তারা বেড়িবাঁধের পর তাদের বিদ্যালয়টি নতুন করে দ্রুত নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোরালেও দাবী করেন।

এব্যাপারে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ: হক জানান, নানা সংকট নিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছি। এ ভবনে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার ব্যবস্থা নেই। দেয়াল খসে পড়ে। মেঘনার নদীর তীরে এ বিদ্যালয়টি থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নেই। জোয়ার ভাটার উপর অনেকটা নির্ভরশীল। আমরা এ বিষয়গুলো স্থানীয় এমপি মহোদয় কে অবহিত করেছি তিনি দ্রুত বেড়িবাঁধের ভিতর একটি নতুন ভবন করে দিবেন বলে জানিয়েছেন।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী গাইন কুমার জানান, এ বিদ্যালয়টি মেঘনার নদীর তীরে এবং বেড়িবাধেঁর বাহিরে হওয়ায় সংস্কার করা যাবে না। এ বিদ্যালয়টি নতুন ভাবে বেড়িবাধেঁর ভিতর নির্মানের কাজের টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডার অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

আবদুল মালেক/ভোলা