বোরহানউদ্দিনে গ্রামগঞ্জের ফার্মেসীগুলোতে ডাক্তার পরিচয়ে দেয়া হয় ব্যবস্থাপত্র

ভোলা বোরহানউদ্দিনে গ্রামগঞ্জের বাজারের ফার্মেসীগুলোতে ডাক্তার লিখে তার পাশে বড় বড় অভিজ্ঞতা লিখে প্যাড ব্যবহার করে দেদারছে রোগি দেখছে একটি চক্র। ওরা ডাক্তার লেখার নিয়ম না থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সূত্রমতে জানা গেছে, উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজার, রানীগঞ্জ বাজার, টবগী উদয়পুর রাস্তা, মজম বাজার, মানিকারহাট, মনিরাম বাজার সহ ছোট বড় বাজার গুলোতে ডাক্তার লিখে প্যাড ব্যবহার করে তার পাশে বড় বড় অভিজ্ঞতা লিখে প্রতিদিন শত শত রোগি দেখছেন অর্থলোভী মানুষ। তারা কেউ প্যারা মেডিকেল করা ও কেউ ১ বছরের প্রশিক্ষন আবার কেউ ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নেয়া। ফার্মেসীগুলোর সামনে অন্য ডাক্তারের নাম লিখে অনেকেই নিজেই রোগি দেখছে আবার ঔষধও বিক্রি করছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুঞ্জেরহাট বাজারের কবিরাজ বাড়ীর ঝন্টু বিশ্বাস প্যারামেডিকেলে ১ বছরের প্রশিক্ষণ নেয়া। অথচ তিনি নামের পূর্বে ডাক্তার ঝন্টু বিশ্বাস লাগিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগি দেখছে। শুধু তিনি নয় এরকম চিত্র পুরো উপজেলার অধিকাংশ ফার্মেসীগুলোতে। রাস্তার মাথার কবির ফামের্সীর আড়ালে নিজেই বড় ডাক্তার লিখে পলিপাস, ছোট বড় টিউমার সহ বিভিন্ন রোগের নিজেই অপারেশন করার অভিযোগ রয়েছে। কুঞ্জেরহাট বাজারের দ্বীপ মেডিকেল হলে বসে নামের পূর্বে ডাক্তার লিখে রোগি দেখছে সাকিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

এদিকে সচেতন মহল মনে করেন বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যন্ত মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য কাজ করছে। অথচ কিছু অর্থলোভী মানুষ কিছুদিনের প্রশিক্ষন নিয়ে নিজেদের নামের পূর্বে ডাক্তার লিখে ব্যবস্থা পত্র দিয়ে গ্রাম-গঞ্জের মানুষ কে ঠকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন ওদের কিছু করতে পারছে না। এরা বুঝে না বুঝে বেশির ভাগ সময় এন্টিবায়েটিক ঔষাধ ও ইনজেকশন লিখছে। আর এগুলো খেয়ে মানুষ দিন দিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাচ্ছে। মাঝে মধ্যে ওদের ভুল চিকিৎসা অনেক কে নি:স্ব করে দিচ্ছে। এই ভুয়া ডাক্তারদের এখনই থামাতে না পারলে মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশংকাও করছেন তারা। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী কার্যকরী ভূমিকা কামনা করেন।

ঝন্টু বিশ্বাস, সাকিবুর রহমান এর সাথে আলাপকালে তারা জানান, সবাই তো ডাক্তার লিখছে আমরা লিখলে কি স-মস্যা। কেউ তো কিছু বলছে না।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: জহিরুল ইসলাম শাহিন জানান, কিছু দিনের প্রশিক্ষন নিয়ে যদি কেউ ডাক্তার লিখে প্যাড ব্যবহার করে রোগিকে ব্যবস্থা পত্র দেয় তাহলে তা অবশ্যই অপরাধ। এদের কে আইনের আওতায় আনা উচিত।

আবদুল মালেক/বোরহানউদ্দিন