‘বোতল নাও কলম দাও’ সম্বলিত সাইনবোর্ড।

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যানে শান্তিমিত্র সমাজকল্যাণ সংস্থার আয়োজনে চলছে শান্তিও ন্যায্যতা উৎসব। আর এই উৎসব ঘিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাহারি রঙে স্টল সাজিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন ময়মনসিংহ’র স্টলের সামনে রাখা হয়েছে একটি ডাস্টবিন। তার পাশে বড় একটি ফেস্টুনে লেখা- ‘প্লাস্টিক বোতল দিয়ে নিয়ে যাও লেখার কলম।’ অর্থাৎ পরিত্যক্ত বা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা খালি প্লাস্টিক বোতল এনে সেই ডাস্টবিনে ফেললেই উপহার স্বরূপ দেয়া হচ্ছে লেখার কলম।

১০ ফেব্রুয়ারি রবিবার নগরীর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চের সামনে শুরু হওয়া শান্তি ও ন্যায্যতা উৎসবে তাদের ব্যতিক্রমী আয়োজন বেশ সাড়া ফেলেছে। মূলত মানুষের যেখানে সেখানে ময়লা, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার অভ্যাস বদল করতেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।

‘পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হবে যদি সবাই উদ্যোগী হয়ে করি ভুলের দলন’, ‘অভ্যাস বদল করুন, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করুন’। এমন বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতার বার্তা শোভা পাচ্ছে ফেস্টুনে।

এ ছাড়াও ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ স্লোগানে মেলার প্রতিটি স্টলে ময়লা ফেলার বিন স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বলেন, ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। অভ্যাস বদল হলে বদলে যাবে পরিবেশ, হবে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশে।

খালি বোতল দিয়ে কলম নিচ্ছে এক শিক্ষার্থী।

কয়েকজন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দেখা গিয়েছে এখানে। তারা বিভিন্ন্ স্থান থেকে বোতল সংগ্রহ করে এখানে ফেলে নিয়ে যাচ্ছে কলম। তাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে তারা বিনামূল্যে কলম পাচ্ছে। এতে করে কলম কেনার টাকা বেঁচে যাচ্ছে। এমন উদ্যোগ চলমান থাকলে অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহী হবে এমন কাজে। এতে একদিকে নিজেদের উপকার হবে, শহরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে।

এ বিষয়ে ‘বিডি ক্লিন ময়মনসিংহ’র বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ফয়সাল বলেন, ‘দেশকে পরিচ্ছন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী কার্যক্রম করছি আমরা। এ বিষয়ে বেশ সাড়াও পাচ্ছি সাধারণ মানুষদের। এই কার্যক্রমটি আশা করি অত্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণটিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিগত এক বছর আগে সারা শহরের ভ্রাম্যমাণ হকারদের ঝুড়ি ও ফেস্টুন সরবরাহ করেছি। হকাররাই এখন পরিচ্ছন্নতার বার্তা বহন করছে। নিজেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করছেন তারা।’

সংগঠনটির জেলা সমন্বয়ক সায়েদ সিফাত বলেন, ‘আমরা দুই বছর আগে যে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম সেটার সফলতার দিকে এগোচ্ছি আমি। আমাদের সাথে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবী নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছে। এটি এই শহরে এখন একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে যেমনটা আমরা চেয়েছিলাম।’

আজকের পত্রিকা/রিপন গোয়ালা/ময়মনসিংহ/এমএআরএস