বাস লঞ্চ ট্রেনে মানুষের স্রোত। ছবি : সংগৃহীত

বৈশাখবরণে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। তিন দিন ছুটি থাকায় নগরবাসী গ্রামমুখী হচ্ছে। ১৪ এপ্রিল রবিবার বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন-পহেলা বৈশাখ। এদিন পুরোদেশের মানুষ উপভোগ করবেন- সরকারি ছুটি আর এর আগের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি।

টানা তিনদিনের এই ছুটির সুযোগে রাজধানী ছাড়ছে হাজারও মানুষ। শহুরে জীবনের একঘেয়েমি কর্মময় জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য অবসর। তাই কেউ ছুটছেন গ্রামে প্রিয়জনের কাছে। কেউ আবার পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন শহরের আশপাশের কোনো বিনোদন কেন্দ্রে। অনেকেই আবার রওনা হয়েছেন দূরের কোনো পর্যটন কেন্দ্রে।

১৩ এপ্রিল শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল গুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। লঞ্চেও দেখা যায় ভিড়ভাট্টা।

বাসে উঠতে মানুষের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত

১১ এপ্রিল থেকেই মূলত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উদ্দেশ্যে পথ ধরেছেন নগরের মানুষ। ট্রেনের আসন দশ দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। বাসেও মিলছে না টিকিট। শীতাতপ বাসের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেই। ভিড় বেশি চট্টগ্রাম সিলেট ও উত্তরবঙ্গের ট্রেনে।

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার থেকে রেলে যাত্রী চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল। সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সপ্তাহখানেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তারপরও অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনে যাত্রা করছেন।

সারাদিনে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। বেশিরভাগ ট্রেনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে জানান জুয়েল।

এনা পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ আতিক জানান, তাদের হুন্দাই বাসের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। টিকিট আগেই বিক্রি শেষ শ্যামলী পরিবহনেরও। বাড়তি যাত্রী চাহিদার জন্য কিছু কিছু গন্তব্যে তারা বাস সংখ্যা বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহনটির কর্মকর্তা জীবন চক্রবর্তী।
এদিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে ভাড়া না বাড়লেও নন এসি বাসগুলোতে বৈশাখের আগে যাত্রী প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী ইলিশ পরিবহন, নারায়ণগঞ্জগামী গজারিয়া পরিবহনের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লঞ্চে দেখা যায় মানুষের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত

শনিবার সকালে গুলিস্তান থেকে শরিয়তপুর যাওয়ার জন্য ইলিশ পরিবহনের যাত্রী রবিউল হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৪০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লাগামী রয়েল পরিবহনের বিরুদ্ধেও ২৫০ টাকার ভাড়া ৩২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

কুমিল্লাগামী যাত্রী শায়লা শারমিন বলেন, ‘ঈদে যেমন ভিজিলেন্স টিম থাকে বিভিন্ন স্টেশনে তেমনি যেসব দিবস ঘিরে যাত্রীদের ভিড় বেশি থাকে সেসব দিনেও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ভিজিলেন্স টিম থাকা দরকার।’

আজকের পত্রিকা/আর.বি/জেবি