বৈশাখী মেলার জন্য প্রস্তুত শেরপুরের অর্ধশত গ্রাম। ছবি : রফিক বিশ্বাস।

বাঙালি জীবনের সঙ্গে মেলার সম্পর্ক দীর্ঘকালের, কিন্তু তা কত পুরনো, কবে এবং কিভাবে এর সৃষ্টি সেসব তথ্য এখনো অজানা। তবে এটি যে আবহমান বাংলার এক প্রাচীণ ঐতিহ্য এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

দেশে মেলার উপলক্ষ অনেক। হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা, দোলযাত্রা, অষ্টমী ও বারুনী স্নানযাত্রা, দুর্গাপূজা, কালীপূজা, জন্মাষ্টমী, পৌষ সংক্রান্তি, চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মেলা বসে। ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখে দেশ সাজবে বাঙালীয়নায়। শহর-বন্দর-গ্রাম-গঞ্জে বসবে বৈশাখি মেলা।

সারাদেশের ন্যায় শেরপুরের প্রায় সাড়ে ৭ শত গ্রামের মধ্যে প্রায় অর্ধশত গ্রামে বা হাটবাজারে বসবে বৈশাখি মেলা। সে উপলক্ষে ইতোমধ্যে ওইসব এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ। মেলায় দোকানীরা দুই এক দিন আগেই এসে স্ব স্ব দোকান-পাটের জায়গা দখল করে থাকেন। আবার কোনো কোনো স্থানের দোকানীরা পহেলা বৈশাখের আগের রাত থেকেই পসড়া সাজানোর কাজ শুরু করেন।

মেলার দোকানীদের পাশাপাশি মুড়ি-মুরকি, সাজ, মুড়ির ও তিলের মোয়া, নাড়ু, গজাসহ বিভিন্ন মিষ্টি ও মুখরোচক খাবার প্রস্তুতকারীরাও বসে নেই। তারাও বৈশাখী মেলা উপলক্ষে দু’পয়সা আয়ের জন্য দিনরাত খেটে তৈরী করছেন ওইসব খাবার। মেলা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাবেন বলে জানালেন উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারীরা।

মেলায় খাদ্যদ্রব্য বিক্রির পাশাপাশি মাটির তৈরী বিভিন্ন তৈজস ও খেলনা তৈরীর কারিগর মৃৎশিল্পীদেরও চোখে ঘুম নেই। তারাও বছরে একবার বাড়তি আয়ের জন্য মাটি দিয়ে বিভিন্ন খেলনা, শো-পিছ, গহনা ও তৈজসপত্র তৈরী করে মওজুদ করছে। কারণ মেলা শুরু হওয়ার ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ওইসব জিনিস বিক্রি শুরু হবে বলে জানালেন শহরের বয়ড়া পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জেলায় প্রতি বছর প্রায় অর্ধশত স্থানে বা গ্রামে এ বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসব মেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মেলাগুলো হলো- সদর উপজেলার পাকুরিয়া ও কামারিয়া ইউনিয়নের ঘূষের মাঠে, তিরসা, বাকের কান্দা, তিলকান্দি, গাজির খামার ইউনিয়নের গাজির খামার বাজার, নকলা উপজেলার নকলা হাই স্কুল মাঠ, গনপদ্দি হাইস্কুল মাঠ, নানায়নখোলা বেড় শিমুল গাছ প্রাঙ্গন, বানেশ্বর্দী, টালকি, চন্দ্রকোনা, রিহিলা, নালিতাবাড়ি উপজেলার কুশল নগর, খলচান্দা, সমশ্চুড়া, গারোকোনা, তন্তর, ঝিনাইগাতি উপজেলার তিনআনী বাজার, ধানশাইল, গান্ধিগাঁও এবং শ্রীবর্দী উপজেলার ঝগড়ার চর ও রানীশিমূল মেলা।

এসব মেলায় কোথাও কোথাও কেবলমাত্র কেনাকাটার পসড়া বসলেও অনেক স্থানে আবার দোকান-পাটের পাশাপাশি চলে ঘোড় দৌড়, লাঠি খেলা, কুস্তি খেলাসহ দেশীয় নানা খেলাধুলার প্রতিযোগিতা। এছাড়া রাতে বসবে বাউল গানের আসর অথবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বৈশাখী মেলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত উল্লেখিত বিভিন্ন ধরনের খেলার খেলোয়ার ও বাউল গানের দলের শিল্পীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেলার দিন প্রতিযোগী ও গানের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য। অনেক খেলোয়ার এবং গানের শিল্পীদেরকে টাকা দিয়ে আগাম বায়না করে রাখছেন বলে জানালেন বেশ কয়েকটি মেলা কমিটির সদস্যরা।

আজকের পত্রিকা/রফিক মজিদ, শেরপুর/এমএআরএস

বৈশাখ নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন