বেনাপোল থানার ওসির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের অভিযোগ

যশোরের শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হুসাইনের বেনাপোলের পরিত্যক্ত বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধারকে সাজানো নাটক বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে ছাত্রলীগ নেতাকে ফাঁসাতেই বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম রাতের অন্ধকারে তালাবদ্ধ বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজিয়েছেন।

শনিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ সহকারী পুলিশ সুপার ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতেই ছাত্রলীগ নেতা আকুল হুসাইনের বাড়ি থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। সেই বাড়িতে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন থাকে।

তিনি আরও বলেন, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, আকুল হুসাইন ছয় মাস ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করেন না। সব সময় তালাবদ্ধ থাকে। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকে ফাঁসাতে গভীর রাতে সাথে করে আনা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গিয়ে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বদনাম রটাতে ফেনসিডিলের খালি বোতল উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা প্রশ্ন করতে চাই, যদি ঘটনাস্থলে গুলি ও ম্যাগজিন থাকে, তাহলে অস্ত্র কোথায় গেল?

ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, মাসুদ করিম আগে ধানমন্ডি থানায় কর্মরত ছিলেন। তখন তার বিরুদ্ধে কলাবাগান থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ধানমন্ডি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদকে খুন করার অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে ধানমন্ডি থানা থেকে তাকে বদলি করা হয়। তিনি বেনাপোল থানার দায়িত্ব নিয়েও একইভাবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছেন। তারই অংশ হিসেবে জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা আকুল হুসাইনের বাড়ি থেকে রাতের অন্ধকারে এসব অবৈধ জিনিস উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে।

ওসি মাসুদ করিমের বাড়ি গোপালঞ্জ হলেও তার পরিবার বিএনপি সমর্থক। এই কারণে তিনি যেখানেই যান সেখানেই আওয়ামী লীগ পরিবারের উপর নির্যাতন- হয়রানি করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। এসময় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বারবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম কোন ব্যবস্থা নেননি। গত ২২ ডিসেম্বর শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হুসাইনের বাড়িতে বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় মামলা পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগ নেতা তুহিনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। এখন তার লাশ উদ্ধার নিয়ে নানা নাটকের কাহিনী জন্ম দিচ্ছে আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা। বিতর্কিত এই ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বিএম জাকির হোসেন, জাবের হোসেন জাহিদ, মারুফ হুসাইন ইকবাল, এসএম হালিম বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু, মাহবুবুল আলম একে রহমন, যশোর শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজওয়ান হোসেন মিথুন, এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি আসলাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তরুণ ও পুরাতন হল ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ প্রমুখ।

এইচ আর তুহিন/যশোর