বেনাপোলে শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে গণশুনানী

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বেনাপোলে এক গণশুনানি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১ টার সময় বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে এ গণশুনানি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক প্রাদোষ কান্তি দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত গণশুনানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অর্থ সচিব আলাউদ্দিন কবির।

এ সময় তিনি বলেন, একটি দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন নৈতিকতা বোধ ও সততা। নৈতিকতা ও সততা হলো মানুষের কাজ কর্মের শুদ্ধাচার। বর্তমান বাংলাদেশ আর ৪৮ বছর আগের দেশ নাই। দেশের অনেক প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির মঙ্গা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডল, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা, স্থলবন্দরের সদস্য জাহিদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) জাকির হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হোসেন, উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল, মামুন, বেনাপোল সিএ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মফিজুর রহমান স্বজন, কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ নাসির উদ্দিনসহ কাস্টমস, বন্দর, সিএ্যান্ডএফ এজেন্টস, পুলিশ, ব্যাংক, গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিবি, সংবাদকর্মী ও শ্রমিক প্রতিনিধি।

এ সময় আলোচকবৃন্দ বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বলেন, বেনাপোল বন্দরে নেই প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট, নেই ফায়ার সার্ভিসের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, চুরি রোধে নেই কোন সিসি ক্যামেরা। নেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কর্মী।

এছাড়া বৃহত্তর এই বন্দরে প্রায় ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত) শ্রমিক নিয়মিত কাজ করলেও নেই কোনো হাসপাতাল বা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা।

এখানে কাস্টমস, বিজিবি ও বন্দর কর্তৃপক্ষ একই পণ্য তিন জায়গায় এন্ট্রি করায় একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে আমদানি কারকরা নিরুৎসাহিত হয়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে বা ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে।

পূর্বে কেবল মাত্র কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এন্ট্রি করায় এই বন্দরে প্রতিদিন ৭ থেকে সাড়ে ৭ শত ট্রাক পণ্য আমদানি হতো যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শত ট্রাক। এছাড়া বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে প্রতিদিন যানজট হচ্ছে। ইতিমধ্যে যানজট নিরশনের লক্ষ্যে ১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস হয়ে আসলেও ফাইল বন্ধি মন্ত্রণালয়ে।

ইয়ানূর রহমান/যশোর