কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৮ দফা দাবি আদায়ে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কার্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান নিয়েছে ডিইউজে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের পাওনা বেতনভাতা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতা ও সদস্যদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল ও বকেয়া বেতন আদায়সহ ৮ দফা দাবী আদায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় আট দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি পালনের সময় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এর প্রতিবাদে কড়া জবাব দেবো আমরা।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, যতোক্ষন না পর্যন্ত দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার মালিক এসে হামলা চালানোকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেবে ততোক্ষন পর্যন্ত আমরা এখানে লাগাতার অবস্থান করবো। একই সঙ্গে মালিক এসে ৮ দফা দাবি মানতে হবে। হামলা চালানোর জন্য তাদেরকে অবশ্যই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং এই ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্যের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় হামলায় সংশ্লিষ্ট কাউকেই আমরা ছাড় দেবো না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া মুক্তি অসম্ভব। আমাদের সঙ্গে একের পর এক প্রতারণা করা হচ্ছে। এমনটি আর হতে দেওয়া যাবে না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্যের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে আলোকিত বাংলাদেশের মালিকপক্ষের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। ডিইউজে লিখিত ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। সাংবাদিকদের পাওনা বেতনভাতার দাবিতে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কার্যালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে অবস্থান নিয়েছি আমরা।

লিখিত ৮ দফা দাবি হলো,

১. সম্পাদক ও প্রকাশক মহদয়ের লিখিতভাবে ঘোষিত পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিমাসের ১০ তারিখের মধ্যে সাংবাদিক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।

২. নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষিত মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।

৩. ২০১৩ সালে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ প্রকাশের পর থেকে অদ্যবদি গত ৫ বছরে সাংবাদিক-কর্মচারীদের কোনো প্রকার ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়নি। যতদ্রুত সম্ভব সকল সাংবাদিক-কর্মচারীকে বিগত বছরগুলোর ইনক্রিমেন্ট দিতে হবে এবং প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট চালু রাখতে হবে।

৪. রিপোর্টারদের প্রাপ্য অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের নির্ধারিত স্থানীয় যাতায়াত ভাড়া (লোকালা ট্রাভেলিং এ্যালাউন্স) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

৫. এখনো যে কয়েকজন সহকর্মীকে অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের অধীন বেতনভাতা দেওয়া হয়নি, তাদেরকে অবিলম্বে অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের আওতায় এনে সে অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য বেতনভাতা পরিশোধ করতে হবে।

৬. লেট নাইট ও কর্মঘণ্টা (সাব-এডিটরদের) নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত নিস্পত্তি করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। লেট নাইট এলাউন্স চালু করতে হবে।

৭. ঐচ্ছিক, অর্জিত, বিনোদনসহ বিভিন্ন ছুটি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যেসব জটিলতা তৈরি হয়েছে তা অবিলম্বে সুরাহা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৮. অনৈতিকভাবে চাকরীচ্যুতদের পুর্নবহাল ও ছাটাইকৃত সাংবাদিক-কর্মচারীদের আইনগত সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ