জীবনের আকুতি জানিয়ে ফেইসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফারহান। ছবি: সংগৃহীত

নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফারহান হক। বড় হয়েছে নানাবাড়িতে। বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া ছেলেটির দুটো কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন তিনি। জীবনের আকুতি জানিয়ে ফেইসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফারহান।

ফেইসবুকে তিনি লিখেছেন,

আমি ফারহান হক উষ্ময়, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ১৫২ ব্যাচের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক বিভাগের ছাত্র। আমাকে আমার মা একাই বড় করছে; আমার বাবা আমাদের সাথে থাকেন না। আমি শুধুই পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য এটা লিখলাম। আমাকে ঘিরেই মা পুরো জীবন পার করে দিল। হ্যাঁ, আমি নানাবাড়িতে থাকি।

২০১০ এ এনআইকেডিইউ থেকে আমার কিডনি বায়োপসি করে জানায় যে আমার মিনিমাল চেঞ্জ ডিজিজ হয়েছে। তখন ক্রিয়েটিনাইন ছিল ১.৯। তারপর তাদের চিকিৎসায় কিছু বছর ঠিক থাকি। ২০১৭ থেকে আমি দেড় বছর সিএমসি (ভেলোর) -তে আবার চিকিৎসাধীন ছিলাম, তখন ওরা আমার রোগের নাম দেয় সিকেডি (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ)। তখন আমার ক্রিয়েটিনাইন ছিল ৩। তারপরে কিছু সময় আবার সুস্থ মানুষের মত পার করছিলাম।

সবই ঠিক যাচ্ছিল, কিন্তু এই ১৩ মার্চ সকালে আমি উঠে দাড়াতে পারছিনা, প্রেসার ১৮০/১২০, চোখ লাল হয়ে আছে। আমাকে তাড়াহুরো করে ডা. মামুন মুস্তাফির কাছে নেওয়া হয়, উনার অধীনে আমি গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারে ১৩দিন ভর্তি থাকি। তখন আমার রক্তের ক্রিয়েটিনাইন বেড়ে ২২ হয়েছিল। সেখানে তারা আমার ডায়ালাইসিস শুরু করে এবং ৮ম ডায়ালাইসিস পর্যন্ত আমাকে ওরা একই ডায়ালাইসিস ফিল্টার ব্যবহার করে প্রতিবার ডায়ালাইসিস করে। এই হাসপাতালের চিকিৎসায় আমার দেড় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। তারপর পিজি’র ডাক্তার রানা মোকাররমের পরামর্শে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস নেওয়া শুরু করলাম, ১৫ এপ্রিল থেকে।

আরও বেশ কয়েক জায়গায় ডাক্তার দেখানোর পর সবার কাছে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাম, তা হল কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট। একবার কোথায় যেন শুনছিলাম যে কয়েকটা ডায়ালাইসিসের মধ্যেই কিডনি ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু আমার তো এখন চার মাস ডায়ালাইসিস চলছে, সপ্তাহে দুইবার করে।

তার উপর রক্ত তৈরি হয় না, এই কারণে একটা ইঞ্জেকশন দিতে হচ্ছে প্রতি সপ্তাহে। আগে কিছু ব্যাগ রক্ত নিয়েছিলাম, তারপর ডাক্তার বলল রক্ত না নিতে, এতে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টে সমস্যা হবে। তাছাড়া আয়রন, হেপাটাইটিস বি, দিতে হয়েছে। ডায়ালাইসিসের পেছনে আমাকে ৫০-৬০ হাজার টাকা প্রতি মাসে দিতে হচ্ছে। এর সাথে আমার জীবন যাত্রা এবং খাবারের খরচেরও একটা পরিবর্তন এসেছে।

আমার দুটি কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। আমার রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ এবং আমার আত্মীয় কেও নাই যে আমাকে কিডনি দিবে। বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী, বাবা-মা, ভাই-বোন, খালা, মামা, চাচা, ফুপি, ছেলে-মেয়ে, নাতি- নাতনি এবং স্ত্রী ব্যতীত আর কেও কিডনি দিতে পারবে না। তাহলে আমার কি হবে জানতে চাইলে পিজির ডাক্তার আমাকে ভারতের চিকিৎসার কথা বলে। কিন্তু তা প্রচুর টাকার ব্যাপার।

আমি খোঁজ নিয়ে যেটুকু জেনেছি, শুধু কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে খরচ হবে ২০লাখ টাকা। ডাক্তার আমাকে ৩০-৩৫লাখ টাকা হাতে নিয়ে নামতে বলেছেন। ডাক্তার বলেছেন যত দ্রুত সম্ভব আমাকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে; কেননা সময় যত যাবে, তত আমার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

সপ্তাহে ২বার করে আমি ডায়ালাইসিস করছি এবং এভারেজে ৬০,০০০৳ খরচ ধরে আমি কোন ভাবেই কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো না। এটা যেন উপর থেকে নেমে আসা এস্কেলেটরে উঠার চেষ্টা।

আমার পারিবারিক অর্থ বলতে কিছুই নেই। এই মুহুর্তে কামরুল ভাইয়ের দেওয়া ২লাখ টাকা ছাড়া আমার কাছে কোন টাকা নাই। তাই আমি সাহায্য চাচ্ছি, সবার কাছে। হয়তো আপনারা সবাই চাইলে আমাকে থেমে যেতে হবে না। আপনার প্রতিটি সাহায্য মূল্যবান এবং আপনার সামান্য সাহায্য মিলেই বেচে উঠবো আমি…

যোগাযোগ

০১৬৭৬৪৭৪১১৫  (উষ্ময়ের নাম্বার)
০১৭১২৪৫৬৯৩৪ (অভিভাবকের নাম্বার)
ঠিকানা : ২৮/প, রিয়াজবাগ, খিলগাঁও তালতলা, ঢাকা-১২১৯।

ব্যাংক একাউন্ট

Name : Farhan Hoque
Account Number : 1781570002514
Dutch Bangla Bank
Rampura Branch.
Routing number :090275740
Swift code: DBBLBDDH178
International Bank CODE : 090

বিকাশ

০১৬৭৬৪৭৪১১৫ (পার্সোনাল/উষ্ময়ের নাম্বার)
০১৭১২৪৫৬৯৩৪ (পার্সোনাল/অভিভাবকের নাম্বার)

নগদ

০১৬৭৬৪৭৪১১৫ (পার্সোনাল)

রকেট

০১৬৭৬৪৭৪১১৫৭ (পার্সোনাল)

আজকের পত্রিকা/রিয়া