ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ নির্বাচন। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত অংশে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার  ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচন।

২৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ১২টা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মধ্যে রয়েছে : বেবী ট্যাক্সি/অটোরিক্সা/ইজি বাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিক আপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, ইজিবাইক এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন যন্ত্রচালিত যানবাহন।

সেইসাথে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১ মার্চ ১২টা পযর্ন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে প্রধান সড়কে যানবাহন চলতে পারবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র দেখিয়ে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া জরুরি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চলাচল করতে পারবে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিষয়ক চিঠি।

মহানগর থেকে বের হওয়ার জন্য যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা পর্যন্ত সড়কটি খোলা থাকবে। তবে গাড়ি চলাচলের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। কোন গাড়ি যেতে পারবে আর কোনটি যেতে পারবে না গন্তব্যের ওপর নির্ভর করবে। অপ্রয়োজনে বা হামেশা কেউ গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে না। হাসপাতালে গমন, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার, বিমানবন্দরে গমনের গাড়ি চলতে পারবে।

২৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা থাকছে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে বাস চলাচল চলবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে যেকোনও পরিবহনে চলাচল করতে পারবে। তবে অহেতুক ঘোরাফেরার জন্যে কোনও ধরনের যান ব্যবহার করা যাবে না।’

প্রচুর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে, এগুলো চলাচলের ওপর আপনার নির্দেশনা কী? এই প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘না, ব্যক্তিগত গাড়ি নির্ধারিত কোনো কাজ ছাড়া চলাচল করতে পারবে না। ঘোরাফেরা করার জন্য তো আর চলবে না। এটা নিয়ে বেশি আলোচনা করার দরকার নেই। এই ঢাকা শহরে তো অনেক ধরনের ইমার্জেন্সি বিষয় থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যারা থাকবেন, তারা এগুলো বুঝবেন।’

নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক ইমার্জেন্সি বিষয় আছে। এয়ারপোর্টে একজন যাত্রী যাবেন, এজন্য কি বন্ধ থাকবে? অ্যাম্বুলেন্স যাবে, এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের জিনিসগুলো যাবে এ রকম জিনিসগুলো বিবেচনা করে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে, যাতে এভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্যাপকভাবে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি।’ বাস চলতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেইন রোডে চলবে।’

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক ইমার্জেন্সি বিষয় আছে। এয়ারপোর্টে একজন যাত্রী যাবে, তার জন্য কি বন্ধ থাকবে? অ্যাম্বুলেন্স যাবে, এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের জিনিসগুলো যাবে, এরকম জিনিসগুলো বিবেচনা করে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে, যাতে এভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্যাপকভাবে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি।’ প্রধান সড়কে বাস চলাচল করতে পারবে বলেও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান।

ঢাকা শহরে প্রচুর প্রাইভেট ভেহিকেল আছে, এগুলো চলাচলের ওপর আপনার নির্দেশনা কী? জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘না, প্রাইভেট ভেহিকেল নির্ধারিত কোনও কাজ ছাড়া চলাচল করতে পারবে না। ঘোরাফেরা করার জন্য তো আর চলবে না। এটা নিয়ে বেশি আলোচনা করার দরকার নেই। এটা ঢাকা শহর তো অনেক ধরনের ইমার্জেন্সি বিষয় থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যারা থাকবেন, তারা এগুলো বুঝবেন।’

এ সময় যান চলাচলের ক্ষেত্রে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলবে। আর জরুরি প্রয়োজনে যারা যান (প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল) ব্যবহার করবে, তারা আমাদের কাছ থেকে স্টিকার সংগ্রহ করবে। এছাড়াও পুলিশকে যদি কেউ তার প্রয়োজনের কথা বলে, তারাও কিন্তু তাদের অনুমতি দেবে। অহেতুক ঘোরাফেরার জন্য অকারণে তো যানবাহন চলতে দেওয়া যাবে না। অন্যথায় একটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র দেখিয়ে যান ব্যবহার করতে পারবে।’

রাজধানী ঢাকার মানচিত্র। ছবি : সংগৃহীত

সাধারণ ছুটির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘ঢাকা শহর পুরোটাতেই ছুটি থাকবে, এটা আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েও জানিয়েছি। স্কুল-কলেজ ও সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।’

সব দলের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে তারা অংশ নেয়নি। একটা কারণ হলো মাত্র এক বছর মেয়াদে তারা নির্বাচিত হবেন। এরপর আবার নির্বাচন হবে। সে কারণে ভোটার ও প্রার্থীদের আগ্রহ কম থাকতে পারে। আর সব দল অংশগ্রহণ করেনি, এতে আমাদের কিছু করার নেই। এটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা তো সবাইকে আহ্বান করেছিলাম, যেহেতু তারা আসেনি, আমাদের কিছু করার নেই।’

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে কমিশনের কোনও ব্যর্থতা রযেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমাদের কোনও ব্যর্থতা নেই। আমাদের কোনও দুর্বলতা নেই। সঠিক নির্বাচন করতে যাবতীয় প্রস্ততি নিয়েছি। তারা রাজনৈতিক মাঠে না গেলে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে, এটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করলে তো হবে না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রতি অনাস্থা নয়, দলগুলো অংশগ্রহণ করলে আমরা খুশি হতাম, না করাটা আমাদের জন্য একটা অস্বস্তিকর অবস্থা।’

ভোটের প্রস্তুতি তুলে ধরে সিইসি আরও বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক থাকবে। বিজিবি, পুলিশ ও র্যা বের টিম টহলে থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এরই মধ্যে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটি সুষ্ঠু, সুন্দর আইনানুগ নির্বাচন। ভোটগ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনও কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/