শামসুর ফকির

একটি প্রোগ্রাম শেষে নিজ দপ্তরে ফিরছিলেন ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন। গ্রামবাসীর উৎকন্ঠা আর জটলা দেখেই গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন তিনি। দেখলেন, ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জরুরী মুহূর্তে গাড়ি পাচ্ছেন না কেউ।

ঠিক সেই মুহূর্তেই হাজির সাতক্ষীরা তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন কারো অপেক্ষা না করেই নিজের গাড়িতে করেই বৃদ্ধ শামসুর ফকিরকে নিয়ে ছুটে যান তালা হাসপাতালে।

মঙ্গলবার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের জেঠুয়া ফকিরপাড়া এলাকায় মানবতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।

শামসুর ফকিরের ছেলে আনারুল ফকির জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আব্বা অসুস্থ। দুপুরের দিকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার মধ্যেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলেও হাসপাতালে নেওয়ার কোন যানবাহন হচ্ছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে ইউএনও স্যার এসে আব্বাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আনারুল ফকির আরও বলেন, ইউএনও স্যারের কাছে আমরা ঋণী হয়ে রইলাম। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন স্যারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো। আমি জীবনে কোনদিন ভুলবো না। আজ হয়তো ইউএন স্যারের প্রচেষ্টায় আমার আব্বা বেঁচে আছেন। তার এমন মানবতায় জন্য আমরা মুগ্ধ হয়েছি।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিটু বলেন, জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা সভা শেষে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন। পথিমধ্যে জেঠুয়া ফকিরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দেখেন রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন অসুস্থ শামসুর ফকির। হাসপাতালে নেওয়ার উপায় পাচ্ছে না কেউ।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজনের জটলা দেখে ইউএনও মহোদয় গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। এমন অবস্থা দেখেই নিজের গাড়িতেই নিয়ে ছুটে যান তালা হাসপাতালে। যোগদানের পর থেকেই একের পর এক বিভিন্ন মানবিক কাজ করে জনগণের ভালোবাসার মানুষে পরিণত হয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আমি যেটা করেছি সেটা আমার দায়িত্ব ছিল। বিপদে থাকা অসহায় মানুষদের পাশে সব সময় আমাদের থাকা উচিত।

-বৈশাখী