বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

১১ অক্টোবর শুক্রবারের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে প্রত্যেক প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানোর ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার উপাচার্য নিজে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সকল দাবি মেনে না নিলে ১৪ অক্টোবর সোমবার থেকে অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তারা।

১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে ৪র্থ দিনের মতো আন্দোলন শুরু করে ১০ দফা দাবির আপডেট জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বিগত সময়ের সব নির্যাতনের বিচার, ক্যাম্পাসে ও হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও প্রভোস্টকে প্রত্যাহারসহ ৯ অক্টোবর বুধবার ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনকারীরা। প্রতিটি দাবির সঙ্গে সেটি বাস্তবায়নের জন্য তারা আল্টিমেটাম দিয়ে দেন।

১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে সেসব দাবির বিষয়ে প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, বুধবার শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে একাত্মতা প্রকাশ করে নানা সিদ্ধান্ত জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি অনুযায়ী হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন বলে জানানো হলেও কোনো অফিসিয়াল নোটিশ আমরা পাইনি। শুক্রবারের মধ্যে এসব দাবির বিষয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা উপাচার্য নিজে এসে আমাদের না জানালে, আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

১০ দফা দাবির ষষ্ঠ দাবিতে ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে বলা আছে— উল্লেখ করে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে বলেন, আমরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ চাই না। আমরা চাই সাংগঠনিক যে রাজনীতি সেটি বন্ধ হোক। গণমাধ্যমে  বিভিন্ন টকশোতে যারা কথা বলছেন, তারা যেন এই পার্থক্যের জায়গাটা বুঝে নেন, সেটিও অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বছরের পর বছর সাংগঠনিক রাজনীতির নামে জোর করে মিছিল মিটিংয়ে নেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে আমরা সেটি আর এগুতে দিতে চাই না।

৯ অক্টোবর বুধবার ঘোষণা দেওয়া ১০ দফা দাবি হলো:

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্তকৃত সবাইকে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে আজীবনের জন্য বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিসিয়াল নোটিশ ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রমাণ করতে হবে।

৪. দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করার জন্য প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিসিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। মোস্ট জুনিয়র ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনও সময় যেকোনও হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামী ৭ দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন, তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ  ৯ অক্টোবর দুপুর ২টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র্যাগিংয়ের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। এইসঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর শুক্রবারের বিকাল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বে ঘটা এধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ঘটা যেকোনও ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম (কোনও সাইট বা ফর্ম) থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে এবং পরবর্তী একমাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব হলের প্রত্যেক ফ্লোরের দুপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ