সদরঘাটে নৌকা চলাচল। ছবি : সংগৃহীত।

রাজধানীর সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে একই পরিবারের ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দশটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর জামসিদা নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জামসিদার স্বামী দেলোয়ার এখন নিখোঁজ। তবে দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় উদ্ধার হন শাহজালাল নামে একজন।

৮ মার্চ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নৌ পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল জামসিদার মরদেহটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের জাফর আলী মালকান্দি গ্রামের কামাল চোকদারের মেয়ে খাদিজা আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল ৮ মার্চ শুক্রবার।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে সাত মাস বয়সি শিশুপুত্র জোনায়েদকে সাথে নিয়ে খাদিজার বোন জামসেদা বেগম, ভগ্নিপতি দেলোয়ার হোসেন, চাচাতো ভাই শাহজালাল চোকদার, চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী শাহিদা বেগম এবং তাদের দুই সন্তান মিম ও মাহিকে নিয়ে শরীয়তপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে সদরঘাটে এসে নৌকাযোগে শরীয়তপুরগামী লঞ্চে ওঠার সময় সুরভী-৭ নামে একটি লঞ্চের ধাক্কায় তাদের বহনকারী নৌকাটি বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে যায়। আহত অবস্থায় শাহজালাল চোকদারকে উদ্ধার করা হলেও বাকি ছয়জন এখনো নিখোঁজ। লঞ্চের ধাক্কায় শাহজালালের দু’পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হলেও বাকিদের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, রাত থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে খাদিজার বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। বিয়ে বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

৮ মার্চ শুক্রবার দুপুরে বাড়ির উঠানে বসে বিলাপ করছিলেন জামসেদার বাবা কামাল চোকদার। তিনি বারবার বলছিলেন, আমার মারে আর নানু ভাইরে আইন্না দে। অগো কইছিলাম রাইতের লঞ্চে আহিস না। একদিন আগে দিনে আয়। আমার সব শেষ হইয়া গেল।

শাহজালাল চোকদারের বাবা মহসিন চোকদার বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অভাবের সংসার হওয়ায় শিশু বয়সেই ছেলেকে ঢাকা পাঠাই। সেখানে দর্জি কাজ শিখেছিল। ভালোই আয় রোজগার করত। তার পাঠানো টাকায় আমরা চলতাম। বৌ আর নাতনি দুইটার খোঁজ পাচ্ছি না। ছেলেটার দুইটা পা বিচ্ছিন্ন হইয়া গেছে। আল্লাহ কেন এত বড় বিপদ দিলা আমারে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকা জোন-৩ এর সহকারী পরিচালক মোস্তফা মহিউদ্দিন জানান, নৌকাটিতে একই পরিবারের সাত জন যাত্রী ও ১ জন মাঝি ছিলেন। সাতজনের মধ্যে শাহজালাল নামে একজনকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবরিদের সহায়তায় বাকিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

মনির হোসেন/শরীয়তপুর/এমএআরএস/জেবি