রাবি স্মৃতিস্তম্ভ

প্রশাসনের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করেছে সাংবাদিক, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিকসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে প্রতিবারের মতো এবারো বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে দেখা যায় নি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলকে। তবে রাকসু নির্বাচন দেওয়া, সহাবস্থান নিশ্চিত করাসহ বেশ আবেদন আছে।

এটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাহীনতা, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকা এবং দেশের প্রতি ভালবাসা না থাকার কারণ হিসেবে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন অনেকেই।

সুত্র বলছে, বুদ্ধিজীবী দিবসে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কখনো কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না। ব্যতিক্রম নয় বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসেও। এর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে কর্মী সংকট, ছাত্রলীগের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ভয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভয় থাকলেও নেতাকর্মীরা আসে না। অধিকাংশ নেতাকর্মী ছাত্র থেকে অছাত্রে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। সিনিয়র নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে অবস্থান করেন। দুর থেকে শুধু রাকসু নির্বাচন দেওয়া, সহাবস্থান নিশ্চিত করা, ট্রেন্ট বসাতে দেওয়াসহ নানান আবেদন জানান তারা। একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেশের এইসব দিনগুলিতে কর্মসূচী পালন না করা লজ্জার এবং ভালবাসাহীনতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন একাধিক নেতাকর্মী।

প্রগতিশীল নেতারা বলছেন, এই সংগঠন এক সময়ের দাপুটে হিসেবে পরিচিত হলেও আজ তারা ঝিমিয়ে গেছে। বুদ্ধিজীবী দিবস টা সকল বিতর্কের উর্ধ্বে। অথচ এই দিনেও তাদের কোনো কর্মসূচী নেই। এতে বুঝা যায় যে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই। এবং সকল দিবসে কর্মসূচী বিহীন থাকায় বুঝা যায় যে তাদের সংগঠনই বিলীন হওয়ার পথে।

ছাত্রদলের কর্মী মিঠু বলেন, নতুন বুদ্ধিজীবী চত্বর করা হয়েছে। তবে আমরা এখনো সেখানে শুভেচ্ছা জানাতে যাই নি। সিনিয়র নেতারা ক্যাম্পাসে না থাকায় আমাদের আয়োজন করার উপায় থাকে না। তবে মন থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, আমি ঢাকায় এবং সভাপতি বগুড়ায়। তাছাড়া বুদ্ধিজীবী দিবসে আমাদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয় না। বিজয় দিবসে জুনিয়র নেতারা কর্মসূচী পালন করতে পারে। তাছাড়া আমাদের কর্মীর সংকট আছে। ক্ষমতাসীনদের কারণে সকলেই ক্যাম্পাসে অনিরাপদ। প্রশাসনও রাকসু নির্বাচন দিচ্ছে না। আমরা কোনো ট্রেন্ট বসাতে পারছি না। কোনো কর্মসূচীও পালন করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের ১৪ ডিসেম্বর নানান কর্মসূচীর আয়োজন করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ প্রত্যক সংগঠন ও কতৃপক্ষ। প্রতিবারের ন্যায় এবারো নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি