লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায় এক কলেজ ছাত্রের বাড়িতে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে বিয়ের দাবি করছেন দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী। ওই ছাত্রী গত ৬ দিন ধরে ওই বাড়ীতে অবস্থান করছেন।

এর আগে ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ওই স্কুল ছাত্রী ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। নার্গিস আক্তার দোয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের মমতাজ আলীর মেয়ে ও বদিউজ্জামানের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাখাওয়াত হোসেনের সাথে প্রেমের আছে আমরা জানি। ওইদিন মেয়েটি সাখাওয়াদের ঘরে উঠলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ওই মেয়ে সাখাওয়াদের বাড়িতে জানালা দিয়ে উঠে বিয়ের দাবীতে অবস্থান করে। এর পর পরই এলাকার কিছু যুবক বদিউজ্জামানের বাড়িতে ভাংচুর চালায়। ঘটনার পর পরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যার আব্দুল গফুর, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সরেজমিনে এসে দেখে যান। এ ঘটনার পর থেকে ছেলে আত্মগোপন করেন।

এলাকাবাসী আরও জানায়, সাখওয়াত হোসেনের সাথে নার্গিস আক্তারের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি মেয়ের পরিবার বুঝতে পেয়ে মেয়েটিকে অন্যত্রে বিয়ে ঠিক করে। মেয়ের বাবা যৌতুকের কিছু টাকা বর পক্ষকে দিয়েও দেয়। কিন্তু সাখওয়াত বিষয়টি জানতে পেয়ে ওই বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। সাখওয়াত তার প্রেমিকা ওই স্কুল ছাত্রীকে তার বাড়িতে আসতে বলে। প্রেমিক সাখওয়াতের কথা মত প্রেমিকা নার্গিস আক্তার গত ১৯ আগস্ট সাখওয়াতের বাড়িতে আসে। এ সময় সাখওয়াত বিয়ে না করেই প্রেমিকা নার্গিসের সাথে আবারো দৈহিক মেলামেশা করার চেষ্টা করেন। ওই সময় স্কুল ছাত্রী বাঁধা দেয় এবং বিয়ে করতে বলে।

বিয়ের পরেই তারা মেলামেশা করবে। এর পরেও শাখাওয়াদ জোড় পুর্বক ধর্ষন করার চেষ্টা করলে মেয়েটি চিৎকার দেয় এবং সাখওয়াত পালিয়ে যায়। সেই দিন থেকে বিয়ের দাবীতে ওই প্রেমিকা স্কুল ছাত্রী অবস্থান শুরু করে সাখওয়াতের বাড়িতে। ওই দিন রাতে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা এ ঘটনাটি মিমাংশা করতে গ্রাম্য সালিশে বসে। ওই সালিশে দেড় লক্ষ টাকা যৌতুক ঠিক করে সাখওয়াত তার প্রেমিকাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। মেয়ের বাবা যৌতুকের ৫ হাজার টাকা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমেই ছেলে পক্ষকে দেয়। কিন্তু ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও আজও মেয়েটিকে বিয়ে করে নাই প্রেমিক সাখওয়াত। পরে শনিবার (২৪ আগষ্ট) মেয়ের বাবা বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

দশম শ্রেণীর ওই স্কুল ছাত্রী নার্গিস আক্তার জানান, সে যখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ে তখনই একই গ্রামের বদিউজ্জামানের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাখাওয়াত হোসেনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের এই প্রেমের প্রায় ৩বছর চলছে। এই ৩ বছরে সে আমাকে বিয়ে করবে বলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মেলা মেশা করে। এমনকি সে নিজে আমাকে বিয়ে করবেন বলে তার ৩টি বিয়েও ভেঙ্গে দেয় শাখাওয়াদ। তাই সে বিয়ের দাবীতে আজ তার বাড়িতে অবস্থান করছে। তাকে বিয়ে করতেই হবে তা নাহলে সেখানেই আত্মহত্যা করবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। নার্গিস আক্তার আরও বলেন, বাড়িতে কোন লোকজন না থাকায় সে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছে এবং গত ৬দিন ধরে সেখানেই অবস্থান করছে।

সাখাওয়াদ হোসেনের বড়ভাই ছানোয়ার বলেন, ওই দিন আমার দাদী মারা গেলে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে আমরা বাড়ির সবাই সেখানে যাই। এই সুযোগে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ওই দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া্ নার্গিস আক্তারকে ঘরের জানালা ভেঙ্গে প্রবেশ করিয়ে দেন। এর পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি কেন তুমি আমাদের বাড়িতে এসেছো? এ কথা বলার সাথে সাথেই এলাকার কিছু যুবক ও মেয়ের পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালান। এ সময় ঘরে থাকা তাদের প্রায় ৫ লক্ষা টাকা তারা লুট করে নিয়ে যান ওই হামলাকারীরা।

নার্গিস আক্তারের খালু সাখোয়াত জানান, আমরা তার বাড়িতে কোন হামলা করিনি তারা নিজেই বাড়ি ভাঙ্চুর করে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মেয়ে শাখাওয়াতের বাড়িতে উঠেছে আমরা শুধু এটাই জানি।

এ বিষয়ে সানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, আমরা ঘটনা স্থালে গিয়েছি সমাধানে চেষ্টা করছি। পরে কোন পক্ষেই এগিয়ে না আসায় ওই অবস্থা ঘটনাটি অমিমাংসিত রয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট