মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

বিয়ের স্বরণীয় কোন এক মুহুর্ত। ছবি: ইন্টারনেট

প্রতিটি মানুষের জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। টাকার অভাবে অনেকে বিয়ে করতে দেরি করেন। কিন্তু বিয়ে করতেও আপনাকে ঋণ দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে বিভিন্ন ব্যাংকগুলো। তাই আর দুশ্চিন্তা না করে আজই যোগাযোগ করুন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে। তবে এই লোন পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য থাকতে হবে। তাহলে আসুন জেনে নেই কোন কোন ব্যাংক বিয়ের জন্য বিভিন্ন ‘ম্যারেজ লোন’ দিয়ে থাকেন। যে ‍ঋণ দিয়ে আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিকে স্বরণীয় করে রাখতে পারেন।

প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংকগুলো বিয়ের জন্য ঋণ দিয়ে থাকে।  

প্রাইম ব্যাংকঃপ্রাইম ব্যাংকের বর্ণনা অনুযায়ী, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, বিদেশি সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক—সবার জন্য ‘বিয়ের ঋণের’ ব্যবস্থা রয়েছে। ১৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক আয় বা বেতনের যে কেউ এ ঋণ নিতে পারবেন। প্রাইম ব্যাংক গ্রাহক-ভেদে এ ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত এই ঋণ দিচ্ছে। এই ঋণ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য যার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। ঋণের বার্ষিক সুদের হার ১২% থেকে ১৫%। 

ব্যাংক এশিয়াঃ এই ব্যাংকের বিয়ের জন্য সরাসরি কোনো ঋণ-সুবিধা নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় ঋণ নিয়ে তা বিয়ের খরচ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ব্যাংকটি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। ১৫ হাজার টাকা মাসিক আয়ের বিভিন্ন পেশাজীবীদের এ ঋণ দেওয়া হয় থাকে যার বার্ষিক সুদের হার (১২-১৫)%। 

আইএফআইসি ব্যাংকঃ এই ব্যাংকটিও গ্রাহক-ভেদে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ‘বিয়ের ঋণ’ দিয়ে থাকে। এর ঋণের মেয়াদ সর্বনিম্ন এক থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত। বার্ষিক সুদের হার সাড়ে ১৬ শতাংশ। 

ট্রাস্ট ব্যাংকঃ ব্যাংকটি ব্যক্তিগত ঋণের আওতায় বিয়ের ঋণ-সুবিধা দেয়। তবে ‘বিয়ের ঋণ’ নামে সরাসরি কোনো ঋণ পণ্য নেই। বিয়ের ঋণ যদি অভিভাবক নিতে চান, তবে তাঁর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছর এবং যিনি বিয়ে করবেন তিনি যদি নিজেই আবেদনকারী হন, তাহলে তাঁর বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। গ্রাহকের চাহিদা-ভেদে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার ঋণ দেয় এই ব্যাংক। (১-৫) বছর মেয়াদি এর ঋণের সুদের হার দুই ধরনের। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের ব্যক্তিদের এ ঋণ-সুবিধা দেওয়া হয়। চাকরিজীবীদের জন্য যে ঋণ-সুবিধা দেওয়া হয়, তার বার্ষিক সুদের হার ১৪.৫%। আর ব্যবসায়ীসহ অন্যদের ক্ষেত্রে এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার ১৬.৫%। 

এইচএসবিসি ব্যাংকঃ এই ব্যাংকের ঋণ পেতে চাকরিজীবী হলে তাঁর আয় কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আয়ের প্রমাণসাপেক্ষে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা হতে হবে। যদি আবেদনকারী অটো পে অথবা সেপস গ্রাহক হন, তবে মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ২৩ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারী অটো পে গ্রাহক হয়ে থাকলে, তবে মাসিক আয়ের ৬(ছয়) গুণ এবং সেপস গ্রাহক হয়ে থাকলে, মাসিক আয়ের ১০ গুণ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। বার্ষিক সুদের হার ১৯%। প্রতিটি ঋণই মাসিক কিস্তিতে চার বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। কোনো ব্যক্তিগত গ্যারান্টার বা নগদ জামানতের প্রয়োজন হয় না। 

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকঃ ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ব্যক্তিগত ঋণের সাব-প্রোডাক্ট হলো ‘বিয়ের ঋণ’। ঋণের আবেদনকারী চাকুরীজীবী হলে তাঁর মাসিক আয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। বিয়ের আনুষ্ঠানিক খরচের জন্য ব্যাংকটি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয় যা (১-৫) বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। এবং সুদের হার ১৭.৫%। 

ইস্টার্ন ব্যাংকঃ এই ব্যাংক সরাসরি বিয়ের জন্য ঋণ দেয় না। এর ব্যক্তিগত ঋণের এনি পারপাসের আওতায় যে ঋণ দেওয়া হয়, তাতে আবেদন ফরম পূরণের সময় বিয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করতে হবে। ঋণ আবেদনকারীর বয়স ২২ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারী চাকুরীজীবী হলে তাঁর আয় ১৫ হাজার এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর আয় ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে যার সুদের হার ১৫%। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ (১-৫)বছর পর্যন্ত। 

সিটি ব্যাংকঃ এই ব্যাংক থেকে বিয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া যাবে ‘সিটি সলিউশনের’ মাধ্যমে। সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে কোনো গ্যারান্টার ছাড়াই। ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। ঋণ পরিশোধ করতে হবে ১২ থেকে ৬০ মাসের মধ্যেই। প্রসেসিং ফি ১.৫%।আবেদনকারী যদি চাকুরীজীবী হয় তবে তাঁর মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা, আত্মকর্ম-সংস্থানকারী হলে তাঁর মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকঃ পারসোনাল লোনের আওতায় এ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যাবে। তবে আবেদন ফরমে বিয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করতে হবে। সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে এই ব্যাংক থেকে। (১-৫) বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হয়। সুদের হার পরিবর্তনশীল। প্রসেসিং ফি ঋণের পরিমাণের ২%। আবেদনকারীর আয় সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা হতে হবে।

আজকের পত্রিকা/এমইউ