মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

বাণিজ্য মন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বিসিআইসির সার ডিলারদের বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) নেতারা। একই সাথে তারা বিএডিসির মাধ্যমে আমদানিকৃত নন-ইউরিয়াসহ সব ধরনের সার বিসিআইসি ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণের দাবি জানান।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)-এর ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)-এর চেয়ারম্যান কামরুল আশরাফ খান পোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল হালিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), বিসিআইসির চেয়ারম্যান হাইয়ুল কাইয়ুম, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওভারসিজ ফার্টিলাইজার সাপ্লাইয়ার ভূষণ রাও, বিএফএর সহসভাপতি মো. মোমেন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মো. শওকত চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে বিএফএর নেতারা বলেন, বিসিআইসির সার ডিলাররা ১৯৯৫ সাল থেকে চাষি পর্যায়ে সুষ্ঠু সার সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছে। সার ব্যবস্থাপনায় তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নন-ইউরিয়াসহ সব ধরনের সার কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা সম্ভব। বিএফএর সদস্যদের মাধ্যমে বিএডিসি আমদানিকৃত সার বিতরণের উদ্যোগ নিলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এ সেক্টরে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘কৃষি উৎপাদনে সাফল্যের জন্য দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এ সাফল্যের পেছনে সার ডিলারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।’ সার ডিলারদের সাথে তৃণমূল পর্যায়ে মাটি ও মানুষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ তিনি আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবি দ্রুত পূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃতে ¡ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ খ্যাত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। গত দশ বছরে সরকার গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের ফলে শিল্প ও কৃষিখাতে আশানুরূপহারে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। চাষি পর্যায়ে নিরবিচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প’ বাস্তবায়ন
করা হচ্ছে। দেশের সর্ববৃহৎ এ সার কারখানায় বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন গ্রানুলার ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে।
সময় মতো সারের চাহিদা মেটাতে দ্রুততার সাথে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার। সারের সুষ্ঠু সরবরাহ, বিপণন, বিতরণ ও আমদানি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার কৃষি খাতকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে সারের জন্য কৃষকদের জীবন দিতে হলেও গত দশ বছরে দেশের কোথাও সারের কোনো সংকট হয়নি। সার ডিলাররা এ কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সার ব্যবসাকে মানব সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সাথে এ ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিএফএর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।