নাচ, গান এবং রঙ দিয়ে স্পেনের ভ্যালেনসিয়াতে পালিত হয় বসন্ত উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

বসন্ত মানেই নতুন ফুলের ঘ্রাণ। শীতের পাতা ঝরা মৌসুম শেষে গাছে গাছে নতুন কুঁড়ির আগমন। বসন্তে প্রকৃতি যেমন নিজ রঙে রাঙিয়ে নেয় নিজেকে, তেমন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হয় নানান সাজে ও সঙ্গীতে। বাংলা ভাষাভাষির মানুষ পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসব পালন করে। দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসন্তের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ

Related image
বাংলাদেশে হলুদ রঙে রাঙানো বসন্ত উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত

পহেলা ফাল্গুন বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী দিবস। এই দিনেই আমাদের দেশে পালিত হয় বসন্ত উৎসব। ষড়ঋতুর এই দেশে বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। এই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ফাগুনের গান দিয়ে শুরু হয় বসন্ত বন্দনা। চারিদিক তৈরি হয় বসন্তের আমেজ। ছেলেরা পরে হলুদ পাঞ্জাবি আর মেয়েরা নিজেদের জড়িয়ে ফেলে হলুদ শাড়িতে।

ভারত

বসন্তে হলি খেলার আয়োজন করা হয় ভারতে। ছবি: সংগৃহীত

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে খুব উৎসবমুখর পরিবেশেই পালিত হয় বসন্ত। বিশেষ করে ভারতের শান্তি নিকেতনে। ‘ওরে গৃহবাসী, খোল্ দ্বার খোল্, লাগল যে দোল’ এই গান গেয়ে প্রতিবছর শান্তি নিকেতনে বসন্ত উৎসব উদযাপিত হয়। অবশ্য ভারতের অন্য প্রদেশগুলোতে এই উৎসব ‘হলি’ নামে পরিচিত। এইদিন সবাই পরস্পরের গালে আবির মেখে শুভকামনা জানায়। খাবার হিসেবে মিষ্টি, দই, মাঠা এবং ভাংয়ের সুব্যবস্থা করা হয়।

থাইল্যান্ড

বসন্তে থাইল্যান্ডে সুক্রান বা জল ছিটানোর আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে বসন্তের দিন সুক্রান বা জল ছিটানো নামে একটা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এটি ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে তিনদিন ব্যাপী চলে। শরীর ও মনের কালিমা দূর করতে এই উৎসবে জল ছিটানোর আয়োজন করা হয়। জলে ভিজে নিজেদের হিংসা, বিদ্বেষ, গ্লানি আর না পাওয়ার বেদনা ধুঁয়ে নেয় তারা।

স্পেন

স্পেনের লাস ফালেস উৎসবে মোমের তৈরি পুতুল। ছবি: ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন

বসন্তের সময় স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে জমকালো ফায়ারওয়ার্ক আর পরস্পরকে রঙজল দিয়ে উদযাপন করা হয় ‘লাস ফালেস’ নামে একটি উৎসব। মূলত মা মেরীর স্বামী সেইন্ট স্টিফেন জোসেফের স্মরণে এই উৎসব পালন করা হয়। কাগজ, কাঠ ও মোমের সমন্বয়ে তৈরি বড় বড় পাপেট দিয়ে সাজানো হয় শহরের অলিগলি। এ পাপেটগুলোর নামই মূলত লাস ফালেস।

মেক্সিকো

Related image
বসন্তকে মেক্সিকোতে বলা হয় সান মার্কোস। ছবি: সংগৃহীত

বসন্তকে মেক্সিকোতে বলা হয় সান মার্কোস। তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব এটি। এই দিনে মেক্সিকোতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের সমাগম হয়। এপ্রিলের ১৪ তারিখ শুরু হওয়া এই উৎসবে মোরগ লড়াই এবং সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। টানা তিন সপ্তাহ ব্যাপী এই উৎসব চলে।

চীন

Related image
চীন ২২-২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চুনইয়ুন নামে এই বসন্ত উৎসবটি উদযাপন করে। ছবি: সংগৃহীত

খুব ঘটা করে চীনে বসন্ত উৎসব পালিত হয়। চৈনিক পঞ্জিকা অনুযায়ী পিনইন মাসে প্রথম দিন যা ইংরেজি মাসের ২২ জানুয়ারি তাদের নতুন বছর শুরু হয়। ২২-২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চুনইয়ুন নামে এই বসন্ত উৎসবটি তারা উদযাপন করে থাকে। নিয়োন নামের এক অপদেবতার গল্প থেকে এই উৎসবটি এসেছে। নিয়োন প্রায়ই শীতের শেষে গ্রামে আসতো। গরু, ছাগল, শস্য এবং ছেলেমেয়েদের ধরে খেয়ে ফেলতো। নিয়োনের হাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসী মজার মজার খাবার তৈরি করে রেখে দিতো। একদিন গ্রামবাসী দেখলো, নিয়োন  লাল রঙের পোশাক পরা এক বাচ্চাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। পরে গ্রামবাসী আবিষ্কার করে, সে লাল রঙ ভয় পায়। এর পর থেকে শীতের শেষে গ্রাম সাজানো শুরু হয়ে যায় লাল রঙের লণ্ঠন, ব্যানার দিয়ে। পরে আর কখনো নিয়োনকে দেখা যায়নি। এই উৎসবে চীনারা ঘরে তৈরি করে মজার সব খাবার। চৈনিক নববর্ষের এই উৎসব শুধু চীনাদের পাশাপাশি অধিকাংশ মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠী উদযাপন করে থাকে।