তাসকিন ও রাহি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর আবু জায়েদ রাহিকে কে দলে নিয়েছে এমন প্রশ্ন নাকি করেছিলেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। আজ অবধি সেই প্রশ্নে উত্তর পাননি প্রধান কোচ। দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর কাছে প্রধান কোচের এই প্রশ্নের উত্তর থাকার কথা।

জাতীয় দৈনিক কালেরকণ্ঠের কাছে তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার উত্তর শুনে মনে হয়েছে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে দলে নিতে ১৯৯৯ সালে জাহাঙ্গীর আলমকে ১৬ তম সদস্য হিসাবে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়েছিল সেই মিনহাজুল আবেদীন নান্নুই ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ঠিক একই ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপ দলে ডাকা পাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ, ১৬ তম সদস্য হিসাবে রাখা হবে আবু জায়েদ রাহিকে। প্রধান নির্বাচক নান্নু্র বক্তব্য নিয়েই এমন খবর প্রকাশ করেছে কালেরকণ্ঠ।

কালেরকণ্ঠর কাছে প্রধান নির্বাচক দাবি করেছেন বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময় থেকেই আবু জায়েদের চোট ছিল। চোটে থেকেও কিভাবে বিশ্বকাপ দলে থাকলেন রাহি? এমন প্রশ্নের উত্তরে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন,’ও তো চোটের কারণে এত দিন বোলিংই করতে পারছিল না। স্থানীয় ফিজিও যে প্রতিবেদন দিয়েছিল সে মতে সব কিছু হয়নি। আমাদের বলা হয়েছিল তিন-চার দিনে সেরে উঠবে। কিন্তু আজই প্রথম বল করার মতো অবস্থায় এসেছে রাহি।’

দল ঘোষণার এত দিন পর এমন তথ্য ও যুক্তি কেন খাড়া করলেন প্রধান নির্বাচক। তার উত্তর হচ্ছে, আবু জায়েদের জায়গায় তাসকিনকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। কালেরকণ্ঠর কাছে সেই তথ্য এক প্রকার স্বীকার করে নান্নু জানিয়েছেন, চোট থাকলে তো পরিবর্তন করতেই হবে। তবে আমরা রাহিকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাব। সে ক্ষেত্রে দল ১৬ জনের হবে। এটা নিয়ে গতকাল বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে।’

বিশ্বকাপ দলে নিয়ে যে যুক্তি খাড়া করে রাহিকে বাদ দেওয়া হচ্ছে সেই একই কারণ দেখিয়ে তাসকিনকেও বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়নি। তাসকিনকে বাদ দেওয়ার পর তাসকিন কান্না করেছেন, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে তারপর তাসকিন নিজেকে প্রমাণের সুযোগও পেয়েছেন।

তবে রাহি তো আর তাসকিন আহমেদ নন তাই ভক্তের ছড়াছড়িও নেই। তাঁর চোখের জলের মূল্যও তাই সামান্যই। তবে আবু জায়েদ রাহির আত্মসম্মানবোধ এবং পরিবার-পরিজন কিন্তু আর দশজনের মতোই আছে।পরিস্থিতি শেষমেশ কী হবে কে জানে, তবে ডাবলিনে এই কদিনের ম্যাচ আর প্র্যাকটিসের হাবে-ভাবে বাংলাদেশের টিম বয়রাও আঁচ করতে পারছেন কী ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, সেটা আবু জায়েদের জন্য হৃদয়বিদারকই। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়ে তিনি নিজেও চমকে গিয়েছিলেন। তার চেয়েও বড় চমক যে একদিন শেল হয়ে তাঁকে এফোঁড়ওফোঁড় করে দেবে, কে জানত! স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাদ পড়ার দুঃসংবাদ কে আশা করে?

আজকের পত্রিকা/এমআরএস