এক অন্য রকম শক্তির যোগান দেয় জাতীয় সঙ্গীত। ছবি:সংগৃহীত

আর মাত্র ১১ দিন পরেই শুরু হচ্ছে ক্রিকেট দুনিয়ার সব থেকে বড় আসর আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯। ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বাংলদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা।

প্রত্যেক ম্যাচের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই,মূল দলে জায়গা পাওয়া ২২ জন খেলোয়াড় সকলে মিলে চলে আসেন মাঠে। এরপরেই শুরু হয় এক এক করে ২ দলের জাতীয় সংগীত। দর্শকের মাঝে হয়তো অনেক সময়েই প্রশ্ন আসে, কোন দেশের জাতীয় সঙ্গীত সব থেকে দীর্ঘ?

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দল গুলোর মধ্যে সব থেকে দীর্ঘ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’। খেলার মাঠে নামার আগে প্রায় ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড সময় বাজানো হয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়ার শক্তির জোগান। জাতীয় সংগীতের দৈর্ঘ্যের বিচারে দ্বিতীয় স্থানে আছে এশিয়ান লায়ন্সরা। অবাক করা বিষয় হলো, লঙ্কানদের জাতীয় সংগীত ‘শ্রীলঙ্কা মাথা’র রচয়িতা আনান্দা সামারাকুন শান্তি নিকেতনে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছাত্র ছিলেন। অনেকেই মনে করেন, শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত লেখায় রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা ছিল। প্রায় আড়াই মিনিট দৈর্ঘ্যের জাতীয় সঙ্গীতের লিরিক ও সুর অনেকটাই রবীন্দ্র ধারার। এমনকি তাদের জাতীয় সংগীতের ‘উচ্চালা জালাধি তারাঙ্গা’ অংশটুকু ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের অংশ! মজার বিষয় হলো, এই জাতীয় সংগীত অফিসিয়াল ভাষা ২টি- সিংহলি ও তামিল। এই তামিল আবার ভারতের দক্ষিণের একটি প্রচলিত ভাষা।

মাত্র ৫২ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের জাতীয় সংগীতের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। দেশটির সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষা হিন্দি হলেও জাতীয় সংগীত কিন্তু বাংলায় কম্পোজ করা। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ গানটি ছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দেমাতরম গানটিও সমমর্যাদায় জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি লাভ করে। ক্রিকেট খেলাটির জনক বলা হয় ব্রিটিশদের। কিন্তু সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের জাতীয় সঙ্গীতের রেকর্ড তাদেরই দখলে। ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো (১৭৪৫ সালে) এই জাতীয় সঙ্গীত ৪০ সেকেন্ড বাজানো হয়।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস/এমএইচএস/এআরকে