বিশুদ্ধ পানির সমাধানে লাইফ স্ট্র। ছবি : সংগৃহীত

পানির অপর নাম জীবন। অথচ বর্তমান বিশ্বের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে। আমেরিকার ওয়াটার ওআরজি সংস্থার তথ্য-উপাত্ত মতে, প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি, অপুষ্টি ও যথোপযুক্ত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। দৈনিক প্রায় ৬ হাজার শিশু অকালেই মারা যাচ্ছে।

বিশুদ্ধ পানি এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের একটি প্রচেষ্টা হচ্ছে ‘লাইফ স্ট্র’।

লাইফ স্ট্র। ছবি : সংগৃহীত

এটি একটি শক্তিশালী ফিল্টার যা দিয়ে অতি সহজে পানি পরিশুদ্ধ করা যায়। নলাকার এ টিউবটি লম্বায় ২৫ সে.মি. এবং ব্যাসার্ধে ২৯ মি.মি.। এর এক প্রান্ত পানিতে প্রবেশ করিয়ে অপর প্রান্ত দিয়ে সেই পানি মুখ অথবা কোনো ভ্যাকুয়াম দিয়ে টানা হয়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটি পানিকে কেবল ময়লা-আবর্জনামুক্তই করে না, সেই সাথে পানিবাহিত বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া স্যালমোনেলা, শিজেলা, এন্টারোকক্কাস এবং স্টেফাইলোকক্কাসের হাত থেকেও রক্ষা করে।

‘লাইফ স্ট্র’ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন এর কোনো অংশ কিছুদিন পরপর পরিবর্তন না করতে হয়। সব অংশগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। বিদ্যুৎ ছাড়াই এটিকে সহজে ব্যবহার করা যায়। মূল পরিকল্পনাকারী ভেস্টারগার্ড ফ্রান্ডসেনের মতে, এমনকি ছোট শিশুরাও ফিডারের মতো করে এর থেকে চুষে পানি পান করতে পারবে।

লাইফ স্ট্র’র জীবনকাল ১ হাজার লিটার, যা একজন মানুষের সারা বছরের পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এটি কেবল বিশুদ্ধ পানিরই ব্যবস্থা করেনি, পাশাপাশি কলেরা, ডায়রিয়া এবং ডিপথেরিয়ার হাত থেকেও মানুষকে রক্ষা করছে। এটি সহজলভ্য হওয়ায় এবং বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সুযোগ সৃষ্টি করার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/জেবি