দিনাজপুরের বিরামপুরে কাটলা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অবহেলায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগে দিনাজপুর জেলাপ্রশাসক কর্তৃক গঠিত দুই সদস্যর তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে ঘটনা তদন্ত করেছেন।

মঙ্গলবার সকালে তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম ও জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ে ঘটনা তদন্তে আসেন।

এর আগে শিক্ষকের অবহেলায় ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৬ শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করেছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলম হোসেন ৬ শিক্ষকের বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে হাতে ব্যানার নিয়ে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তারা সহপাঠি আব্দুল আজিম ম-লের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে শ্লোগানে স্লোগানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস মূখরিত করে।

দোষী শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না বলে ঘোষনা দেন। এসময় নিহত ছাত্রের সহপাঠিরা দোষী শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

পরে, তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবু সালে মোঃ মাহফুজুল আলম শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সকালে কাটলা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল আজিম মন্ডল ক্লাস শুরুর দিকে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরক্ষণে, তার সহপাঠিরা আজিমকে মোটরসাইকেলে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার জন্য ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট সহযোগিতা চাইলে কোনো শিক্ষকই সহযোগিতা করতে রাজি হননি।

পরে, সহপাঠিরা তাকে ভ্যানযোগে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল আজিম মন্ডলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ওইদিন দুপুরেই বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষকের ব্যবহৃত ৬টি মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ওই বিদ্যালয়ের সামনে ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে তারা ওই শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম ও জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন।

এসময়, বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম রাজু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম মেজবা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন, আওয়ামীলীগের কাটলা ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী,ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মহিলা সদস্য সামসুন্নাহার বেগমসহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলম হোসেন জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে ছয় শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তবে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় পরিচালনা কমিটি কর্তৃক শিক্ষক বহিস্কারের বিষয়ে আমি এখনও কোনো চিঠি পাইনি।

মো.মাহাবুর রহমান/বিরামপুর