নির্যাতনের শিকার যুবক।

বিরলে মধ্যযুগীও স্টাইলে এক যুবককে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পুর্বের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় দিলীপ চন্দ্র রায় (৩০) নামের ওই যুবককে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।

১৪ জুন শুক্রবার সকালে উপজেলার শহরগ্রাম ইউপি’র চাপাই (নওদাপাড়া) গ্রামের মৃতঃ কান্দুরা চন্দ্র রায়ের পুত্র নির্যাতিত দিলিপ চন্দ্র রায় কে গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের বর্ণনা দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী কান্দুরা রাণী, মণি বালা, বৃষ্টিসহ অনেকে জানায়, গত ৬ মাস আগে নির্যাতিত দিলীপের সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর নিতাই চন্দ্র রায়ের কন্যা টেপেরী রাণী (১৩) এর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠার গুজবে উভয় পরিবারের সাথে মনমালিণ্য সৃষ্টি হয় এবং ঐ ঘটনায় দিলীপ গত ৬ মাস ধরে বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।

দিলীপের পরিবারের লোকজন জানান, গত ১ মাস পুর্বে দিলীপ বাড়ীতে ফিরে এসে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার পরিচালনা করে আসছিল।

১৪ জুন শুক্রবার সকালে দিলীপ বাড়ী থেকে বের হয়ে আসলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পাশের বাড়ীর নিতাই চন্দ্র রায়ের পুত্র শমেষ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে তার ভাই বাবলু চন্দ্র রায়, নির্মল চন্দ্র রায় ও তার মামা একই উপজেলার ধামইড় ইউপি’র দারইল গ্রামের মৃতঃ আন্ধারু চন্দ্র রায়ের পুত্র মন্টু চন্দ্র রায় মিলে দিলীপকে তুলে বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং মধ্যযুগীয় কায়দায় দিলীপকে বাড়ীর কাঁঠাল গাছের সাথে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতন করে।

খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রঞ্জন চন্দ্র রায় ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ এলাকার বেশকিছু লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদ জানালে মেয়ের ভাই শমেষ ও তার লোকজন তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান (মুরাদ) এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিষয়টি শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। স্থানীয় চৌকিদার দিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছেলেটির নিরাপত্তাজনিত কারণে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে নির্যাতনকারী শমেষ চন্দ্র রায়, বাবুলু চন্দ্র রায়, নির্মল চন্দ্র রায় ও মন্টু চন্দ্র রায়ের নিকট জানতে চাইলে আমাদের প্রতিবেদকের নিকট কোন মন্তব্য করতে রাজি হোননি।

আতিউর রহমান/বিরল