সিংগীজানি চরে কৃষকের জমি পরিদর্শন করছেন কৃষি কর্মকর্তা।

যতই দিন যাচ্ছে ততই কৃষি সমৃদ্ধ হচ্ছে তিস্তার চরাঞ্চল। চরে ফলনও হচ্ছে ভালো। খরিপ এবং রবি মৌসুমের বেশিভাগ ফসল এখন চাষাবাদ হচ্ছে চরে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের কোথাও সংরক্ষণাগার না থাকায় উৎপাদিত ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন প্রকার ফসল যেমন আলু, মরিচ, পেঁয়াজ, বেগুনসহ অন্যান্য ফসল সংরক্ষণ করতে না পারায় পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে ফসল সমূহ। তিস্তার ধূ-ধূ বালুচরে চলতি মৌসুমে মরিচের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মরিচসহ নানাবিদ ফসলে ভরে উঠেছে তিস্তার চরাঞ্চল।

জমি জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো পুনরায় চরে ফিরে এসে চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন পর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের হাজারও একর জমিতে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানাবিধ প্রজাতির ফসল। বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বেগুন, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাদাম, সরিষা, তিল, তিশি, তামাক, কুমড়া মসুর ডালসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে।

কথা হয় কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গীজানি গ্রামের মরিচচাষি রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এ বছর চরে অনেক জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি নিজে দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছে। যদি মরিচ, পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যেত তা হলে ভালো দাম পাওয়া যেত। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হতে ২৫ মণ মরিচ পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৩২ হতে ৪০ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, চরাঞ্চলের জমিতে এখন নানাবিদ ফসলের ভালো ফলন হয়। সে কারণে চরের মানুষ এখন অনেক খুশি। ফসল সংরক্ষণ করতে পারলে আরও দাম পাওয়া যেত।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, পলি জমে থাকার কারণে চরের জমি অনেক উর্বর। যার কারণে যে কোনো প্রকার ফসলের ফলন ভালো হয়। তিনি বলেন, চরের কৃষকরা নিজে পরিজন নিয়ে জমিতে কাজ করে। সেই কারণে তারা অনেক লাভবান হয়। সংরক্ষণাগার একটি ব্যয়বহুল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। যার কারণে এটি অনেকে স্থাপন করতে চায় না।

হযরত বেল্লাল/সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।