রপ্তানি করা চাল। ছবি : সংগৃহীত

জটিল আকার ধারণ করেছে ধান-চালের সমস্যা। এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চালের অপ্রয়োজনীয় আমদানি। তবে এসব সমস্যা সমাধানে চাল রপ্তানির প্রস্তাব করেছেন ধান-চালের মিল মালিকরা।

তারা বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক সায় না দিলেও পরে কৃষি মন্ত্রণালয় ১০-১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল রপ্তানির করার কথা জানিয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়ে তারা আরও বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় চালের মজুত বেশি। তাই চাল রপ্তানি না করলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক সায় না দিলেও পরে কৃষি মন্ত্রণালয় ১০-১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করার কথা জানিয়েছেন। তবে কাগজে-কলমে চালের মজুত বেশি হলেও প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি : সংগৃহীত

এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কৃষকদের ধানে ন্যায্য মূল্য পেতে চাল রপ্তানিকেই সমাধান মনে করছেন। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে চাল রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘চলতি বছর ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে। কিন্তু এখন চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেও কম। যার কারণে ধানের দাম নিয়ে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের কৃষককে বাঁচাতে হবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যেটা করতে পারি, সেটা হলো আমরা চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করে সীমিতকরণ করতে পারি। পাশাপাশি চাল রপ্তানির দিকেও আমাদের জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে’।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাজারে ধানের মণ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, যেখানে ধান কাটার একজন শ্রমিককে দিতে হয় তার চেয়ে বেশি টাকা। আর সরকার প্রতি মণ বোরো ধান ১ হাজার ৪০ টাকায় কিনলেও কৃষক পাচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সারাদেশে।

এ অবস্থায়ও সরকারিভাবেও ধান কেনা শুরু হয়নি। ধান কিনছেন না মিল মালিকরাও। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সরকার এ বছরের মে মাস থেকে ১৩ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছে। চলবে তিন মাস। মে মাসের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।

কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁসহ বেশির ভাগ বড় মোকামে ধান-চাল কেনা প্রায় বন্ধ রয়েছে। চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা পুরনো চাল তারা সরকারি গুদামে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার এই সময় দেশের ১৬ হাজার চালকলের প্রায় সবই চালু থাকে। কিন্তু বর্তমানে চালু রয়েছে প্রায় ১ হাজার চালকল। কারণ হিসেবে চালকল মালিকেরা বলছেন, তাদের কাছে থাকা পুরনো চালই বিক্রি হয়নি। ফলে তারা আর নতুন করে ধান কিনছেন না।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার মূলত কেনে চাল আর তা চালকল মালিকদের কাছ থেকে নেয়। চালকল মালিকরা ফড়িয়াদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে। সরকার প্রতিবছর ১ লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনার ঘোষণা দেয়। কিন্তু কোন সময়ই তা কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা হয় না। ফলে সবসময় বড় কিছু চালকল মালিক ধান-চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন।

অথচ এর মধ্যেও চলছে চাল আমদানি। যা কৃষককে আরও বিপদে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সরকারি-বেসরকারিভাবে গত ১০ মাসে ২ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৩ লাখ ৮০ হাজার টন চাল।

তবে অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘চাল আমদানি আমরা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারি না। পাশাপাশি চাল রপ্তানির দিকেও আমাদের জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে’।

এ বিষয়ে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেন, ‘দেশে যে পরিমাণ উদ্বৃত্ত চাল থাকুক না কেন, এ মুহূর্তে চাল এক্সপোর্ট করা হবে খুব স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত হবে। যে কোনো বড় দুর্ঘটনার সময় দেশকে হয়তো এ জন্য বড় মাশুল দিতে হতে পারে। আমরা বলছি না, চাল রপ্তানি বন্ধ করা উচিত’।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/জেবি