পেট্রোল পাম্প

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করায় ০৪টি পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে আলুচাষি সহ শীতকালীন সবজি চাষি ও মোটরযান চালকরা ।

রবিবার সকাল থেকেই পেট্রোল পাম্পগুলোতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের ডাকা ধর্মঘটে সাড়া দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে উপজেলার ০৪টি পাম্পের জ্বালানি তেল সরবরাহ।

ধর্মঘটের ফলে এক দিকে যেমন তেল নিতে না পেরে গাড়িচালকরা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। ধর্মঘট চলমান থাকলে আক্কেলপুর উপজেলার সাথে জয়পুরহাট ও বগুড়ায় যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখছেন গাড়িচালকেরা।

এছাড়াও বোরো মৌসুম ও শীতকালীন সবজি চাষের এই সময়ে জ্বালানি তেল না পেলে জমিতে সেচ কাজ বিঘিœত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

আ. রাজ্জাক নামে এক আলু চাষি বলেন, এবছর আমি প্রায় ১০ বিঘা আলু রোপন করেছি। আলুতে প্রায় চার থেকে পাঁচ বার পানি সেচ দিতে হয়। এতে শ্যালো মেশিন চালাতে জ্বালানী তেল প্রয়োজন এই ধর্মঘট চলমান থাকলে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হবো এবং আলু চাষ সম্ভব হবে না।

রোয়ার গ্রামের কৃষক আবু কালাম বলেন, আমরা বিকল্প হিসাবে বাজার থেকে জ্বালানী তেল কিনতে গেলে তারা দশ থেকে পনের টাকা বেশী নিচ্ছে এবং অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে আক্কেলপুর বিভিন্ন হাট-বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের জ্বালানী পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি করতে দেখা গেছে কিন্তু তারা লিটারে দশ থেকে পনের টাকা করে বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আক্কেলপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জল হোসেন বলেন, আমি জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুরে স্কুলে আসি। ধর্মঘটের কারণে আমার স্কুলে আসতে সমস্যা হচ্ছে। ভ্যান, অটো এখন ভরসা। এসে সময় ব্যবস্থাপনা সঠিক ভাবে করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া অফিস গামী ব্যক্তিরা পড়েছেন বিপাকে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ১৫ দফা দাবি আদায়ের এ ধর্মঘট শুরু করেছে। দাবিগুলো হচ্ছে- জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭% নির্ধারণ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের কমিশন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাকি পরিবেশক পরিশোধ করবেন তা সুনির্দিষ্ট করা, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের প্রথা বাতিল করা, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণের প্রথা বাতিল করা ইত্যাদি।

উপজেলার সদরে বগুড়া বাস ষ্ট্যান্ডের পাশে আক্কেলপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক বজলুর রশিদ মন্টু কবিরাজ মুঠোফোনে জানান, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধর্মঘট। এটি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত। দাবি না মানা পর্যন্ত তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলে আবারও তেল বিক্রি শুরু হবে।

-মওদুদ আহম্মেদ/আক্কেলপুর