রবি’র আর-ভেঞ্চারস’র উদ্যোক্তারা। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের সামনে তাদের ব্যবসায়িক ধারণা তুলে ধরেন রবি’র আর-ভেঞ্চারস’র পাঁচ উদ্যোক্তা। আর-ভেঞ্চারস হচ্ছে নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি’র নেয়া একটি পদক্ষেপ।

সম্প্রতি ডেমো ডে নামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর-ভেঞ্চারস’র আওতায় কাজ করা নতুন পাঁচ উদ্যোক্তা বছরব্যাপী ওই প্রকল্প থেকে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক অগ্রগতি তুলে ধরেন। উদ্যোক্তারা যেন তাদের ব্যবসায়িক প্রচেষ্টাকে সফল করতে পারেন এজন্য প্রাথমিক মূলধণের যোগান দিয়েছে রবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি আর-ভেঞ্চারস’র আওতায় পরিচালিত স্টার্ট-আপগুলোর কার্যক্রম বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখেন এবং এ ধরণের পদক্ষেপ সামাজিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডেমো ডে’তে স্থানীয় বিনিয়োগকারী এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টার্টআপ ঢাকা থেকে মুস্তাফিজুর রহমান খান, বেটারস্টোরিস থেকে মিনহাজ আনোয়ার, মুহাইমিন খান ও জয়া চৌধুরী, আইডিএলসি থেকে জাভেদ নূর ও মোহাম্মদ জুবায়ের আলম, কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড থেকে আনিসা আলী ও তাহমিদ এফ কবির, এজ রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটিং থেকে আলী ইমাম প্রমূখ। এসময় বিনিয়োগকারী ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাদা আলাদা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন রবি’র আর-ভেঞ্চারস’র পাঁচ উদ্যোক্তা।

পাঁচটি স্টার্ট-আপ’র মধ্যে একটি হচ্ছে শুধু নারীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবহণ সেবা প্রদানকারী অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহণ সেবা, শাটল। কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এটি দৈনিক প্রায় ১ হাজারটি রাইড সেবা প্রদান করেছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি রাইড পরিচালনা করেছে স্টার্ট-আপটি।

‘শেয়ারিং ইকোনোমি’ ও ‘ক্রাউড সোর্সিং’ মডেলের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা আরেকটি স্টার্ট-আপ হচ্ছে এয়ারব্রিঙ্গার। এই সেবাটির মাধ্যমে বিদেশী পণ্য কিনতে আগ্রহী কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট দেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে তার কাক্সিক্ষত পণ্যটি আনানোর সুযোগ পায়। এক্ষেত্রে এয়ারব্রিঙ্গার ভ্রমণকারীর লাগেজের খালি জায়গাটি ব্যবহার করার মাধ্যমে এ সেবাটি প্রদান করে। এর ফলে প্রথাগত পদ্ধতির তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ দ্রুত পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে এয়ারব্রিঙ্গার। প্রতি মাসে স্টার্ট-আপটির সেলস গ্রোথ ২৫% এবং শপার গ্রোথ ২৭%।

আর-ভেঞ্চারস’র আওতায় আরো রয়েছে ফটো, ভিডিও, মিউজিক ইত্যাদি (বাংলাদেশী কনটেন্ট) কনটেন্ট বিক্রির জন্য গড়ে তোলা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, পিক্সমামা। ইতোমধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে ৫ হাজার ফটোগ্রাফার নিবন্ধিত হয়েছেন। এছাড়া ৪০ হাজার ফটোগ্রাফের সমৃদ্ধ সংগ্রহ গড়ে তুলেছে, ৪শ’ ফটোগ্রাফারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ৭টি ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে পিক্সমামা।

আরেকটি স্টার্ট-আপের নাম কমইঞ্জিন ও যাচাই। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সোশ্যাল সিআরএম সল্যুশন প্রদান করে কমইঞ্জিন। যাচাই হচ্ছে কমইঞ্জিনেরই একটি উদ্যোগ যার মাধ্যমে একটি পণ্য আসল না নকল তা যাচাই করা যায়। বর্তমানে রবিতেই বাণিজ্যিক সেবা প্রদান করছে কমইঞ্জিন।

আজকের পত্রিকা/এমআরএস