মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

মালয়েশিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী। ছবি: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত স্থান। বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সরকার ওয়ান স্টপ সার্ভিন চালু করেছে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীগণ সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পাচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত গতি এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অনেকগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশে^র অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীগণ এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ সরকার উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে একমত।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, মালয়েশিয়া সাউথ এ্যাসোসিয়েশন ও মালয়েশিয়ার এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কোর্পোরেশন এর সহযোগিতায় ৪র্থ বারের মত মালয়েশিয়ায় আয়োজিত ‘শোকেস বাংলাদেশ ২০১৯-গো গ্লোবাল’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী ইনাম আহমেদ, এমপি মালয়েশিয়ার আন্তর্জতিক বাণিজ্য ও শিল্প উপমন্ত্রী ড. ওয়াং কিয়াং মিং, বাংলাদেশের বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপি, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, উভয় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ১,৫৯৫.৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২৩২.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করেছে ১,৩৬৩.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশ থেকে প্রধানতঃ তৈরী পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি ইত্যাদি রপ্তানি হয়। মালয়েশিয়ায় হালাল পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এ শোকেস বাংলাদেশ ২০১৯-গো গ্লোবাল এর মাধ্যমে বাংলাদেশের হালাল পণ্যসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্য সম্পর্কে মালয়েশিয়ার ক্রেতাদের অবহিত করণ, মালয়েশিয়ার আমদানি কারকেদের সাথে নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং সম্ভাবনাময় খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাগনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানানোর সুযোগ হবে।

মালয়েশিয়ায় ‘শোকেস বাংলাদেশ ২০১৯-গো গ্লোবাল’ এ যোগদানের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী ১০ জুলাই রাতে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেনের আনমন্ত্রণে বাণিজ্যমন্ত্রী এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে ব্রান্ডিং করা হচ্ছে, দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মালয়েশিয়ান শিল্প কারখানা বাংলাদেশে গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। এখানে মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, নীতি নির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেছে। এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ১২ জুলাই কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এর সহযোগিতায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সবাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণের সাথে মতবিনিময় করবেন। আগামী ১৩ জুলাই তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা/এমইউ