দুদকের মামলায় নিরীহ কারাভোগকারী পাটকল শ্রমিক জাহালম। ছবি : সংগৃহীত

বিনা দোষে ভুল আসামি হিসেবে পাটকল শ্রমিক জাহালমের ৩ বছর জেল খাটার পেছনে কারা জড়িত, তা দেখবেন বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

১৭ এপ্রিল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। পরে এ মামলার ফাইল না আসায় শুনানির জন্য আগামী ২ মে পরবর্তী দিন ঠিক করে দিয়েছেন আদালত।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান, জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম। জাহালমও নিজেও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সকালে এ মামলার শুনানি শুরু হলে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় আদালতে মামলার নথি আসেনি দেখে আদালত বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল আজই ফাইল আসবে এবং আমরা শুনানি করতে পারবো। কিন্তু ফাইল আসেনি।

এসময় আদালত দুদকের আইনজীবীকে ২ সপ্তাহের মধ্যে মামলার সংশ্লিষ্ট সব নথি দাখিলের নির্দেশ দেন। কোনো অপরাধ না করেও জাহালমের জেল খাটার পেছনে কারা জড়িত, সেই তদন্ত রিপোর্টও দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আগামী ২ মে শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন।

এর আগে, গত ১০ এপ্রিল জাহালমের বিষয়ে জানতে তাকে হাজির করতে বলেন আদালত। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল  বুধবার জাহালম আদালতে হাজির হন।

জাহালত চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি জামিন পান হাইকোর্টের এই বেঞ্চ থেকেই। তাকে জামিন দেওয়ার আদেশের সময় হাইকোর্ট বলেন, জামিন নেওয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়টির শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এ ঘটনার পেছনের ঘটনা কী, কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করতে হবে।

ভুল আসামি হয়ে ২৬ মামলায় প্রায় ৩ বছর কারাগারে থাকা পাটকল শ্রমিক জাহালমকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই দিনই মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের ওই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পরই কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। তার পরিবার ফিরে পায় স্বস্তি। এর পরেই দেশজুড়ে সমালোচনা  শুরু হয় দুদকের কতিপয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে।

আজকের পত্রিকা/কেএফ/আ.স্ব/