লালমনিরহাটের আদিতমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রেখে বিটুমিন পোড়ানো কালো ধোঁয়া ও শব্দ দুষণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালীন সময় বিটুমিন পোড়াতে দেখা যায়। এ কর্মযজ্ঞ চলায় দুই দিন ধরে হচ্ছে না দৈনিক সমাবেশ।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রকৌশল দফতর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে আদিতমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত।

বিদ্যালয়ের ১৩০জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৫জন।

এ বিদ্যালয়ের মাঠের পুর্ব কর্নারে সড়ক নির্মাণের নির্মান সামগ্রী রেখেছেন একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রথম দিকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাঁধা প্রদান করলেও কোন কাজ হয়নি।

বুধবার (২২ জানুয়ারী) ঠিকাদার সকল বাঁধা উপেক্ষা করে বিদ্যালয় মাঠে কাজ শুরু করেন। এতে বিটুমিন পোড়ানোর কালো ধোঁয়া এবং পাথর মিক্সার মেশিনের বিকট শব্দে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

নির্মাণ সামগ্রীর কারনে দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দৈনিক সমাবেশ। জোড়ে চিৎকার করে পাঠদান করেও শিক্ষার্থীরা শুনতে পাচ্ছে না শিক্ষকের কথা। বিটুমিন পোড়ানো কালো ধোয়ার কারনে কোমলমতি শিশুরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও সৌরভ বলে, মেশিনের শব্দে ক্লাশে কিছুই শোনা যাচ্ছে না। কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস নেয়াও কষ্টকর। এ কারনে দুই দিন ধরে দৈনিক সমাবেশও হচ্ছে না। তারাও এর প্রতিকার দাবি করে।

নির্মান কাজের তদারকি কর্মকর্তা আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশল দফতরের কার্য সহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, আদিতমারী উত্তর পাড়া সড়কের ২২০ মিটার ও বসিনটারী সড়কের ২৮৩ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ করছেন ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা।

বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কোথাও তো এটা রাখতে হবে। বেশি দিন লাগবে না। দুই এক দিনের মধ্যে শেষ হবে।

আদিতমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, শব্দ দুষন ও কালো ধোঁয়ায় বিদ্যালয়ে থাকাই কষ্টকর। প্রথম দিকে বাঁধা দিয়েছি, থানা পুলিশ এসেছিল।

কিন্তু কেউ তা বন্ধ করতে পারেনি। কালো ধোঁয়া ও শব্দ দুষনের কারনে দুই দিন ধরে পাঠদান মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি এর প্রতিকারে ঊর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনএম শরীফুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পরিবেশ দুষন হয় এমন কোন কিছু বিদ্যালয় মাঠে রাখা বা ব্যবহার করা অন্যায়।

এ বিদ্যালয়ের বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট