ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যোগদানের পর থেকেই নারী কেলেঙ্কারী অভিযোগ উঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ এর বিরুদ্ধে। প্রতারনার ফাদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাসের পর মাস বাসা বদল করে এক নারীর সাথে বিয়ে না করেই শারীরীক সর্ম্পক গড়ে তোলেন এই ইউএনও তাহির পুরে যোগদানের পর সেখানকার জেলা প্রশাসক বিষয়টি জেনে তাকে ডেকে নিয়ে জানতে চাইলে ও পাত্তা দেননি তিনি পরর্বতীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে দায়ের করা একটি অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান সুনাগঞ্জের জেলা প্রশাসক। গঠিত হয় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা ও ওই নারীকে না জানিয়ে সেলাই মেশিন করার অযুহাতে ব্যাংক ঋন তোলার কথা বলে ওই নারী ও তার মায়ের ছবি ও ভোটার কার্ড সংগ্রহ করেন ইউএনও। কিন্তু পরে তার কাছে গোপন করে ওই নারীর নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের করেন সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজ। এক পর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী বলে ইউএনও কে জানালে গর্ভ নষ্ট করতে ব্যাতিব্যস্ত হয়ে পড়েন ইউএনও তার কথায় রাজি না হওয়ায় হুমকিও দেন ওই নারীকে তিনি। তখনই প্রান রক্ষার্থে ইউএনও এর কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায় ওই নারী বিচ্ছেদ হয় বিবাহ ছাড়া শারীরীক সম্পর্কের ওই সংসারের। বিচার চেয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দারে দারে ঘুরতে থাকে অসহায় এই নারী।

আর এসব অভিযোগ গড়ায় তাহিরপুরে যোগদানের পর আসে সুনাগঞ্জের জেলা প্রশাসনে শুরু হয় তদন্ত। আর এসব অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়াই আজ বৃহস্পতিবার তার বদলির আদেশ দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবদুল লতিফ। তার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনেই ইউএনও কে বদলির বিষয়টি জানায় সুনাগঞ্জের জেলা প্রশাসন।

বর্তমানে তাকে তথ্য-প্রযুক্তি যোগাযোগ বিভাগের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। সেখানে সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। তাকে আগামী রবিবারের মধ্যে ওই পদে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গেল কয়েকমাস আগে ভুক্তভোগী ওই নারী আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেন। তাছাড়া অভিযোগ ওঠে ওই নারীকে না জানিয়ে তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন ইউএনও। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করে।

সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হারুন অর রশীদকে আহ্বায়ক করা হয়। তিনি গত ১৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন জমা দেন।

নারী কেলেঙ্কারীর বিষয়ে অনলাইন ও বিভিন্ন দৈনিকে ইতিপূর্বে সংবাদ প্রকাশ হয় ইউএনও এর বিরুদ্ধে আজও দেশর জাতীয় দুটি দৈনিকে ওই সংবাদ প্রকাশ হয়।